
নয়াদিল্লি: আলোচনা ছাড়াই নির্বাচন কমিশনের একতরফা আইএএস ও আইপিএস বদলি ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ রাজ্যের আবেদন খারিজ করে দিল। বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশই। ফের রাজ্য সরকার এবং কমিশনের ট্রাস্ট ডেফিসিট বা বিশ্বাসযোগ্যতার অভাবের প্রসঙ্গ উত্থাপন করলেন প্রধান বিচারপতি।
এদিন মামলার শুনানিতে রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “২০২৪ সালের নির্বাচন এমনকি উপনির্বাচনেও বদলির সময় বা রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের সময় রাজ্যের মতামত নিত কমিশন। আইনেও আলোচনার সংস্থান রয়েছে। কিন্তু এই প্রথম বার একতরফা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কমিশন। রাজ্যপালের কাছেও আবেদন করা হয়নি।”
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের আইনি প্রেক্ষিতকে স্বীকার করে নিয়েও প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, যেহেতু রাজ্যে নির্বাচনের অল্প কিছুদিন মাত্র বাকি রয়েছে। তাই এই সময় সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। একই সঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আপনার রাজ্যের সমস্যা হল সেখানে দুই সাংবিধানিক সংস্থার মধ্যে ট্রাস্ট ডেফিসিট রয়েছে। তাই এসব ঘটছে। তাই আমাদের জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়োগ করতে হয়েছে।”
পাল্টা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কমিশনের ক্ষমতা থাকা আর তার ব্যবহার করা দুটো আলাদা বিষয়। এ বার রাজ্যে যে সব ঘটনা ঘটছে, তা প্রথম বারের জন্য ঘটছে। তাহলে কি সন্দেহ জাগবে না?” শুনানি শেষে রাজ্যের আবেদন খারিজ করে দেয় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।
কী বলেছিল কলকাতা হাইকোর্ট?
বাংলায় নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরই গত ১৫ মার্চ থেকে ১৯ মার্চের মধ্যে ৪৬ জন অফিসার বদল করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে এবং এই আধিকারিকদের পুনর্বহালের দাবিতে দায়ের হয় জনস্বার্থ মামলা। এই মামলায় সহমত হয় রাজ্য। পাশাপাশি বিডিও, আইসি এবং ওসি বদলি নিয়ে দায়ের হয় আর একটি মামলা। তবে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ মামলা দুটি খারিজ করে দেয়। আদালতে তরফে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের অফিসারদের বদলি করার সিদ্ধান্তকে ইচ্ছাকৃত, অযৌক্তিক বা দুরভিসন্ধিপূর্ণ বলে মনে করা যায় না। কারণ গোটা দেশে এমন অফিসার বদলির ঘটনা ঘটেছে একাধিক জায়গায়। হাইকোর্ট আরও বলেছিল, যদি দেখা যায় কোনও ক্ষমতা ছাড়াই প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করা হয়েছে অথবা অবৈধভাবে করা হয়েছে, তাহলেই তাতে হস্তক্ষেপ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে হস্তক্ষেপের কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ খুঁজে পায়নি আদালত। হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য। কিন্তু, সেখানেও ধাক্কা খেতে হল।