
নয়াদিল্লি : এআই এবার সুপ্রিম কোর্টেও? যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বর্তমানে প্রায় সব ক্ষেত্রেই ঢুকে গিয়েছে। বিচার ব্যবস্থাতেও নাকি এবার থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নেওয়া হবে। বার অ্যান্ড বেঞ্চের সূত্র মারফত এমনই খবর পাওয়া গিয়েছে। তাহলে কি এবার থেকে মামলার বিচার করবে এআই? কোনও মামলার রায়ের জন্য কি আর বিচারকের প্রয়োজন হবে না? কিংবা মামলার লড়াইয়ে আর প্রয়োজন নেই আইনজীবীর? সুপ্রিম কোর্টে কীভাবে কাজ করবে এআই ? আর সুপ্রিম কোর্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আসার ফলে কি বহু মানুষের চাকরি যেতে চলেছে?
জানা গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে এআই আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিচারব্যবস্থায় এআই আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে বলে বার অ্যান্ড বেঞ্চের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে মাস্টার অফ রস্টার হলেন প্রধান বিচারপতি। অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টে কোন মামলা কোন বেঞ্চে উঠবে, তা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন বিচারপতি সূর্যকান্ত। এছাড়া, মামলা লিস্টিংয়ের দায়িত্ব থাকে শীর্ষ আদালতের রেজিস্ট্রারদের উপর। জানা গিয়েছে, অভ্যন্তরীণ তদন্তে আদালতের রেজিস্ট্রারের মধ্যে পদ্ধতিগত সমস্যা দেখা গিয়েছে। তারপরই এআই অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। আরও উদ্বেগের বিষয় যে, রেজিস্ট্রারদের মধ্যে বহু কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় ধরে একই পদে ছিলেন। মামলা লিস্টিংয়ের ক্ষেত্রে বহু ক্ষেত্রে অনিয়ম দেখা গিয়েছে। পুরনো প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাজ করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গিয়েছে এআই এবার সেই মামলা লিস্টিংয়ের কাজই করবে। বেঞ্চ বন্টনের ক্ষেত্রেও বেনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এমনও দেখা গিয়েছে, একটা মামলা খারিজ হয়ে যাওয়ার পর আবার সেই মামলায় অন্য বেঞ্চে উঠছে। বার অ্যান্ড বেঞ্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেঞ্চ বণ্টন ও মামলা তালিকাভুক্তের কাজে এআইকে ব্য়বহার করা হবে। তাহলে সব সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও সুপ্রিম কোর্টের তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তবে, যদি সত্যিই সুপ্রিম কোর্টে এআই আনা হয়, তাহলে বিচার ব্যবস্থায় বড় বদল আসতে চলেছে।