Supreme Court: দীর্ঘ সময় ধরে বৈবাহিক শারীরিক সম্পর্কে আপত্তি মানসিক নিষ্ঠুরতা, বলল সুপ্রিম কোর্ট
Supreme Court Mental Cruelty in Marriage: সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহের বেঞ্চে একটি বিবাহ বিচ্ছেদের মামলার শুনানি চলছিল। সেই পর্যবেক্ষণে শীর্ষ আদালত বলে যে ভারতীয় আদালতগুলি বারংবার জানিয়েছে যে শারীরিক সম্পর্ক বা যৌনতায় অস্বীকার প্রবল মানসিক কষ্ট তৈরি করে। এটি বিয়ের ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয়।

নয়া দিল্লি: বিয়ের পর কোনও যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়াই ক্রমাগত শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে অস্বীকার করা মানসিক নির্যাতন। পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্টের ১৩(১)(আইএ) ধারায় এটি বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য বৈধ কারণ বলেই গণ্য করা হবে।
সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহের বেঞ্চে একটি বিবাহ বিচ্ছেদের মামলার শুনানি চলছিল। সেই পর্যবেক্ষণে শীর্ষ আদালত বলে যে ভারতীয় আদালতগুলি বারংবার জানিয়েছে যে শারীরিক সম্পর্ক বা যৌনতায় অস্বীকার প্রবল মানসিক কষ্ট তৈরি করে। এটি বিয়ের ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয়।
সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ বলে, “আইনি এবং সাংবিধানিক দিক থেকে বিয়ে কখনও কেবল দুই ব্যক্তির অধিকারের একটি চুক্তিভিত্তিক মিলন হিসাবে ছোট করে দেখা যায় না। এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভাগ করে নেওয়া প্রত্যাশা এবং সমান দায়িত্বের উপর গড়ে ওঠা একটি গভীর ব্যক্তিগত ও সামাজিক অংশীদারিত্ব।”
শীর্ষ আদালত জোর দিয়ে বলে যে দাম্পত্য়ে অধিকার ও কর্তব্য অবিচ্ছেদ্য। একটি দায়িত্ব পূরণ করে, আরেকটি অস্বীকার করা এই প্রতিষ্ঠানের (বিবাহ) সারবত্তাকেই নষ্ট করে।
শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে অস্বীকার নিষ্ঠুরতার সমান, এই সাপেক্ষেই রাজস্থান হাইকোর্ট গত বছরের ২ জানুয়ারি এক চিকিৎসকের ডিভোর্সের আবেদন গ্রহণ করেছিল। সুপ্রিম কোর্টও সেই রায়কেই বহাল রাখে। স্ত্রী, যিনি পেশায় গাইনোকলোজিস্ট তিনি হাইকোর্টের রায়কেই চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হন।
জানা গিয়েছে, ২০০৭ সালের ৫ ডিসেম্বর ওই যুগলের বিয়ে হয়েছিল। স্ত্রী গুজরাটের একটি সরকারি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। স্বামীর পোস্টিং ছিল রাজস্থানে। তাদের ১৮ বছরের বিয়েতে মেরেকেটে দুই-তিন মাস তারা একসঙ্গে থেকেছেন। তারা ১৫ বছর আলাদা ছিলেন, কোনও সন্তানও ছিল না তাদের।
স্বামীর অভিযোগ ছিল, যে অল্প সময় তারা একসঙ্গে ছিলেন, সেই সময়ও স্ত্রী আগে বাড়ি ফিরে নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিতেন। দরজা নক করার পরও খুলতেন না। তারা আলাদাই শুতেন। আদালতও বলে যে এই আচরণ নিষ্ঠুরতার সমান।
শীর্ষ আদালত বিবাহ বিচ্ছেদে সম্মতি জানিয়ে বলে যে বিয়ে মানসিক সমর্থন, সেবা ও বিশ্বস্ততার মিশ্রণ, যেখানে কর্তব্যের সঙ্গে অধিকার মিলেমিশে থাকে। একাধিকবার তাদের মধ্যে মিলমিশ করানোর চেষ্টা করলেও, তাদের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়নি। একে অপরকে সমর্থন করতে রাজি ছিলেন না কেউই।
