TMC on CEC Gyanesh Kumar: জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতে সই সংগ্রহ তৃণমূলের, শুক্রেই হতে পারে বড় পদক্ষেপ
Parliament Budget Session: দেশে ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন শুরুর পর থেকেই বিরোধী দল গুলির নিশানায় ছিলেন জ্ঞানেশ কুমার। বেশির ভাগের অভিযোগ, বিজেপি কথাতেই প্রতিটি রাজ্যজুড়ে বৈধ ভোটারদের চিহ্নিত করে বাদের চক্রান্ত করছেন তিনি। বিশেষ ভাবে পশ্চিমবঙ্গে বেছে বেছে ভোটারদের বাদ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলে তৃণমূল। এই অভিযোগের ক্ষেত্রকে আরও মজবুত করে ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটার।

নয়াদিল্লি: মঙ্গলবার কলকাতায় যখন সাংবাদিকদের মুখোমুখি জ্ঞানেশ কুমার। সেই সময় নিজের ধরনা মঞ্চে ক্যানভাসে একটি ছবি আঁকলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার সারমর্ম SIR। আর সেই ছবিতে বড় বড় অক্ষরে লেখা ‘ভ্যানিশ’। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এটাই তৃণমূলের স্পষ্ট অবস্থান। এবার সেই অবস্থানকেই সংসদীয় পরিসরে ব্যবহার করতে চায় তৃণমূল। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আনতে চায় অপসারণ প্রস্তাব। সেই মর্মে সংশ্লিষ্ট নোটিসে স্বাক্ষর সংগ্রহের কাজও প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর, আগামিকালই সেই ইমপিচমেন্ট নোটিস সংসদে পেশ করবে তৃণমূল।
তবে কতজনের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে? সূত্রের খবর, ওই নোটিসটিতে এখনও পর্যন্ত লোকসভার ১৩০ জন সাংসদ এবং রাজ্যসভার ৬৩ জন সাংসদ স্বাক্ষর করা হয়েছে। সুতরাং, মোট স্বাক্ষরের সংখ্যা দাঁড়াল ১৯৩ জন। নোটিস পেশের নিয়ম অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ চাইতে গেলে লোকসভার নোটিসে কমপক্ষে ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন। রাজ্যসভার ক্ষেত্রে ৫০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন। ফলে প্রয়োজনীয় সংখ্য়া পেরিয়ে গিয়েছে বললেই চলে। আর জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবের মাধ্যমে আবারও ইন্ডিয়া জোটের কিছুটা দূরত্ব কমেছে বললেও ভুল হবে না।
তবে অতীতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার কোনও নজির নেই। সংসদীয় নিয়ম বলছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের জন্য প্রথমে প্রস্তাব লোকসভা এবং রাজ্যসভায় পেশ হবে। সেই নিরিখে ভোটের মাধ্যমে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রস্তাব পাশ হওয়া প্রয়োজন। তা হলে সম্ভব অপসারণ।
উল্লেখ্য, দেশে ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন শুরুর পর থেকেই বিরোধী দল গুলির নিশানায় ছিলেন জ্ঞানেশ কুমার। বেশির ভাগের অভিযোগ, বিজেপি কথাতেই প্রতিটি রাজ্যজুড়ে বৈধ ভোটারদের চিহ্নিত করে বাদের চক্রান্ত করছেন তিনি। বিশেষ ভাবে পশ্চিমবঙ্গে বেছে বেছে ভোটারদের বাদ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলে তৃণমূল। এই অভিযোগের ক্ষেত্রকে আরও মজবুত করে ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটার। খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছিলেন, রাতারাতি কীভাবে এই বিবেচনাধীন ভোটারের সংখ্যা ৬০ লক্ষে পৌঁছে গেল?
