
নয়াদিল্লি: বাংলার বিধানসভায় তৃণমূলের এখন দুটি ভাগ। লোকসভাতেও কি সেই ছবি দেখা যাবে? গত কয়েকদিন ধরেই এই জল্পনা বাড়ছে। আজ (৮ জুন) তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করতে পারেন বলে খবর রটেছিল। কিন্তু, রবিবার রাত পর্যন্ত তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবির পর্যাপ্ত সংখ্যায় সাংসদদের সমর্থন আদায় করতে পারেনি বলে জানা গিয়েছে।
তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার দিল্লি এসেছেন। আর ইন্ডি জোটের বৈঠকে যোগ দিতে রবিবার রাজধানীতে পা রেখেছেন স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ব্যক্তিগতভাবে তৃণমূল সুপ্রিমো একাধিক সাংসদকে ফোন করেছেন বলে সূত্রের খবর। মমতা শিবির মনে করছে, মুসলিম সাংসদরা ছাড়াও প্রায় ১৩ জন লোকসভার সাংসদ পাশে আছেন।
এদিকে রবিবার সন্ধ্যায় দিল্লি পৌঁছে গিয়েছেন তৃণমূলের লোকসভার সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দিল্লি পৌঁছেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ও। এছাড়াও একাধিক বিক্ষুব্ধ সাংসদ আগে থেকেই দিল্লিতে আছেন। কাকলির নেতৃত্বেই বিক্ষুব্ধ সাংসদরা লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করতে যেতেন বলে জানা গিয়েছিল। কিন্তু সূত্রের খবর, দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে যে সংখ্যা প্রয়োজন, তা জোগাড় না হওয়া পর্যন্ত তাড়াহুড়ো করবে না বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী।
চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় ২৯টি আসন পেয়েছে তৃণমূল। তার মধ্যে বসিরহাটের সাংসদ শেখ হাজি নুরুল ইসলাম প্রয়াত হয়েছেন। এই মুহূর্তে লোকসভায় তৃণমূল সাংসদের সংখ্যা ২৮। দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে দুই তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। কাকলি ঘোষ দস্তিদাররা সেই সমর্থন এখনও পাননি বলে খবর। ফলে আজ (সোমবার) ইন্ডি ব্লকের বৈঠকের দিন তৃণমূলের ভাঙন আপাতত অনিশ্চিত। তবে বিক্ষুব্ধ সাংসদরা শেষ পর্যন্ত কোনও চমক দিতে পারেন কি না, নজর থাকবে সেদিকেই।