
নয়া দিল্লি: কোটি কোটি টাকা, কেজি কেজি সোনা উদ্ধার হওয়ায় শিরোনামে এসেছিলেন বীরভূমের পাথর সম্রাট মহম্মদ নাজিবুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডল। তিনি বছরে যে বিরাট অঙ্কের আয়কর দিতেন, তা দেখে চোখ কপালে উঠেছিল তদন্তকারীদের। পরবর্তীতে তিনি বিদেশে পালিয়ে গিয়েছেন বলে দাবি করে পুলিশ। দুবাই নাকি তুরষ্ক? কোথায় আছেন, তা নিয়ে রয়েছে বড় জল্পনা। এবার সেই টুলুর অবস্থান সুপ্রিম কোর্টে জানাল কেন্দ্র।
রাজ্য়ে সরকার বদলের পর টুলু মণ্ডলের ১৪৪ কোটি টাকার সম্পত্তির হদিশ পাওয়া যায়। টুলুকে পাওয়া না গেলেও তাঁর একের পর এক ‘কীর্তি’ সামনে আসে। তৃণমূল জমানায় পথশ্রী, নদী বাঁধের কাজে অধিকাংশ বরাত পেতেন টুলু। বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানের একাংশে বাঁধ, রাস্তা তৈরি ও মেরামতির বরাত পেতেন। তৃণমূল সরকারের পথশ্রী প্রকল্প, নদী বাঁধ, ড্যামের বেশিরভাগটাই একাধিক কোম্পানির নামে কাজ করতেন টুলু। সরকার বদলের পর আর দেশে খোঁজ মেলেনি তাঁর।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানিয়েছেন, দুবাইয়ের সঙ্গে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী টুলু মণ্ডলকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। টুলু মন্ডলের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানাকে সমর্থন করে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, গত ২৩ মে পরিবার নিয়ে দেশ ছেড়ে দুবাইতে পালিয়ে গিয়েছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে দুবাইয়ের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৫২ কোটি টাকা ট্রান্সফার করা হয়। এরপরই দুবাইতে পাকাপাকিভাবে থাকার জন্য ১০ বছরের গোল্ডেন পারমিট নিয়েছেন তিনি। রাজ্য সরকার তাঁকে দুবাই থেকে আনতে চায়।
সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানিয়ে দেন, দুবাইয়ের সঙ্গে ভারত সরকারের বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। ভারত সরকার তাকে ঠিক আনবে। বিরোধিতা করে টুলু মণ্ডলের আইনজীবী বলেন, “টুলু মন্ডল পরিবার নিয়ে ছুটি কাটাতে গিয়েছেন। তিনি দশ বছরের ভিসা পেয়েছেন।” জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানার বিরোধিতাও করেন তাঁর আইনজীবী। পরবর্তী শুনানি আগামী সপ্তাহের মঙ্গলবার।