
নয়াদিল্লি: মাস ছয়েক আগে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে প্রাণহানির কোনও ঘটনা ঘটেনি। রক্তপাতহীন ভোট হয়েছে। আর এই হিংসাহীন ভোটের জন্য কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF)-র ভূমিকার প্রশংসা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বুধবার নয়াদিল্লির ন্যাশনাল পুলিশ মেমোরিয়ালে পুলিশ স্মরণ দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দেশের শহিদ পুলিশকর্মীদের অবদানের কথা স্মরণ করেন তিনি। সেখানেই দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে CAPF-র ভূমিকারও প্রশংসা করেন।
বাংলার বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে কী বললেন অমিত শাহ?
এদিন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ উঠে আসে অমিত শাহের বক্তব্যে। তাঁর কথায়, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের মতো রাজ্যে নির্বাচনী হিংসা নিয়ন্ত্রণে এলেও বাংলায় অতীতে নির্বাচনের সময় হিংসার ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানির নজির রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচন একটিও প্রাণহানি ছাড়াই সম্পন্ন করার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করেন তিনি। অমিত শাহের কথায়, বাংলায় কোনও প্রাণহানি ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন করা একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য এবং তা নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। তাঁর দাবি, দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে হিংসামুক্ত করার ক্ষেত্রে এই সাফল্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সাম্প্রতিক বাংলার নির্বাচন বিবেচনা করুন। উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের মতো রাজ্যে নির্বাচনী হিংসা বন্ধ করতে পেরেছিল দেশ। কিন্তু বাংলায় ঐতিহাসিকভাবে নির্বাচনী হিংসা অব্যাহত থেকেছে, যেখানে প্রতি নির্বাচনে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আমি CAPF-এর সমস্ত জওয়ানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাতে চাই। তাঁরা বাংলার বিধানসভা নির্বাচন একটিও প্রাণহানি ছাড়া সম্পন্ন করে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন এবং একটি নতুন নজির স্থাপন করেছেন। এখন এটা সর্বজনস্বীকৃত যে গোটা দেশ নির্বাচনী হিংসা থেকে মুক্ত হয়েছে।”
ন্যাশনাল পুলিশ মেমোরিয়ালের কথা উল্লেখ করে এদিন অমিত শাহ বলেন, ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের কর্তব্যরত অবস্থায় শহিদ হওয়া পুলিশকর্মীদের স্মৃতির উদ্দেশে ন্যাশনাল পুলিশ মেমোরিয়ালের উদ্বোধন করেছিলেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পুলিশকর্মীরা যাতে এই স্মৃতিসৌধ থেকে অনুপ্রেরণা পান এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সর্বদা সতর্ক থাকেন, সেই লক্ষ্যেই এই স্মৃতিসৌধ তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এই স্মৃতিসৌধে এসে শহিদ পুলিশকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। স্বাধীনতার পর থেকে এখনও পর্যন্ত কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৩৬,৮৫২ জন পুলিশকর্মী। চলতি বছর সেই তালিকায় আরও ১৫৪ জনের নাম যুক্ত হয়েছে। ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (IB) অধিকর্তা মহেশ দীক্ষিত ওই শহিদদের নাম পাঠ করেন। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অমিত শাহ বলেন, দেশের জন্য তাঁদের আত্মত্যাগ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।