
নয়া দিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) প্রয়াত বাবাকে নিয়ে মল্লিকার্জুন খাড়্গের ( Mallikarjun Kharge) বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। খাড়্গের এই মন্তব্যের প্রতিবাদে সুর চড়িয়েছে বিজেপি। এবার এই ঘটনায় রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi) কটাক্ষ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী (Pralhad Joshi)। তাঁর মতে, রাহুল গান্ধীর সঙ্গে থাকার কারণে বাকিরাও তাঁর মতো ভাষা ব্যবহার করছেন। মন্ত্রীর আরও দাবি, রাহুলের মতোই দলের প্রত্যেক অপরিণত হয়ে উঠেছেন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী বলেন, “আমরা ভাবতাম কংগ্রেসে রাহুল গান্ধী অপরিণত। কিন্তু তাঁর সঙ্গে থাকতে থাকতে দলের প্রত্যেকেই অপরিণত, হতাশ ও নিরাশ হয়ে পড়েছেন। এতটা নিচু স্তরে নেমে তাঁরা ভারতের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে, এমনকী তাঁরা যে ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত, সেই ক্ষেত্রের সংস্কৃতিকেও নষ্ট করছেন।” তিনি আরও বলেন, “রাহুল গান্ধীর সঙ্গে থাকার কারণেই দলের সর্বভারতীয় সভাপতি থেকে শুরু করে একাধিক রাজ্য সভাপতি, সকলেই একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করছেন। এর একটা কারণ হল, তাঁরা সবসময় নিজেদের নেতার সঙ্গে থাকেন এবং তাঁকে অনুসরণ করতে হয়। এর প্রভাবও তাঁদের উপর পড়ে। সম্প্রতি কর্নাটক কংগ্রেসের সভাপতি ঠিক একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। এবার কংগ্রেস সভাপতিও একই কাজ করছেন…”
বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ সিংহের ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিতর্কের সূত্রপাত। রবিবার সেখানে বক্তব্য রাখার সময় দর্শকাসনে উপস্থিত এক ব্যক্তি খাড়্গেকে বাধা দেন। অভিযোগ, ওই ব্যক্তি বলেন, মোদী কোথাও যাবেন না। এর জবাবে রীতিমতো উত্তেজিত হয়ে খাড়্গে বলেন, “মোদী কা বাপ ভি জায়েগা”। মোদীর বাবাও চলে যাবেন। একবার নয়, একই মন্তব্য দু’বার করেন তিনি। সন্তোষ কুমার নামে ওই ব্যক্তিকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পরে তাঁকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়। তবে পরবর্তী সময়ে সন্তোষ দাবি করেন, তিনি আসলে বলতে চেয়েছিলেন, বিদ্রোহ না হলে মোদী যাবেন না। তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
খাড়্গের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত বাবাকে নিয়ে মন্তব্য করে রাজনৈতিক শালীনতার সীমা অতিক্রম করেছেন খাড়্গে। এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্টে শাহ লেখেন, মোদী এবং তাঁর পরিবারকে নিশানা করে বারবার আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেছে কংগ্রেস। অতীতে মোদীর মা-কে নিয়ে মন্তব্য, তাঁকে ‘মৃত্যুর সওদাগর’ বলা এবং তাঁর পেশাগত পরিচয় নিয়ে কটাক্ষ করার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।