
নয়াদিল্লি : হরমুজ় প্রণালীর ভবিষ্যত কী? ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ় তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এদিকে, ট্রাম্পের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি হরমুজ় না খুললে ইরান ধ্বংস করে দেবে। কিন্তু তারপরেও মাথা নিচু করেনি তেহরান। এদিকে, ভারতের এখনও ১৬টি জাহাজ আটকে রয়েছে হরমুজ়ে। ওই জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এই পরিস্থিতিতে কী ভাবছে ভারত?
হরমুজে জাহাজ চলাচল নিয়ে সতর্ক ভারত। ভারতীয় জাহাজে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হরমুজ প্রণালীর বাইরে মোতায়েন রয়েছে ভারতীয় নৌ-বাহিনী। এদিকে, হরমুজ় প্রণালী নিয়ে আজ ভোটাভুটি হতে পারে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে। ভোটাভুটির আগে কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর বিদেশ মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর। কূটনৈতিক পথে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চায় ভারত। এমনই বার্তা দিয়েছেন এস জয়শঙ্কর। এর আগেও একাধিকবার ভারতের তরফে কূটনৈতিক পথে আলোচনার বার্তা দেওয়া হয়েছিল। খোদ প্রধানমন্ত্রী এই বার্তা দিয়েছিলেন। এখন ভোটাভুটিতে কী সিদ্ধান্ত হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।
নিরাপত্তা পরিষদে হরমুজ প্রণালী নিয়ে ভোটাভুটির প্রস্তাব দিয়েছিল বাহারিন। গত এক মাসের বেশি সময় ধরে কার্যত অবরুদ্ধ হরমুজ় প্রণালী। ভারত, পাকিস্তানের মতো বন্ধু দেশগুলির জন্য হরমুজ ইরানে খুলে দিলেও নিরাপত্তা নিয়ে জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গিয়েছে। ফলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বিপর্যস্ত হচ্ছে। তাই সদস্য দেশগুলোকে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সামরিক শক্তি প্রয়োগ করার অনুমতি দেওয়া উচিত। এমনই প্রস্তাব প্রথম আনে বাহারিন। তবে, সামরিক শক্তি প্রয়োগ নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলির মধ্যেই মতভেদ রয়েছে। সেক্ষেত্রে সামরক শক্তি প্রয়োগ নিয়ে ভারতের কী অবস্থান থাকে, সেদিকে নজর থাকবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি, ইরান সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজ়ের সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “চাইলে এক রাতেই গোটা ইরান ধ্বংস করে দিতে পারে আমেরিকা। সেই রাত হতে পারে মঙ্গলবারই।” অর্থাৎ মঙ্গলবার রাতে ফের ইরানের উপর প্রবল প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। এমনকী, গোটা ইরান ধ্বংসের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এর আগে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে বিস্ফোরক পোস্টও করেন। সেখানে ট্রাম্প লেখেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু ও অন্যান্য পরিকাঠামোতে হামলা চালানো হবে। তাঁর দাবি, যদি তেহরান কোনও চুক্তিতে রাজি না হয় বা হরমুজ পুনরায় না খোলে, তাহলে বড়সড় পদক্ষেপ করা হবে।