SC On Vande Mataram: বন্দে মাতরম পুরো না গাইলে কী শাস্তি? বৈধতা নিয়ে কেন্দ্রের কাছ থেকে সুপ্রিম জবাব তলব

Vande Mataram Supreme Court Hearing: মামলাকারীর বক্তব্য, ‘বন্দে মাতরম্’-এর শেষ চারটি স্তবক। কৃষ্ণের যুক্তি, এই স্তবকগুলিতে দুর্গা, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর মতো হিন্দু দেব-দেবীদের স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে এবং নাগরিকদের তা গাইতে বাধ্য করা প্রকৃতপক্ষে ধর্মীয় ও আদর্শগতভাবে বাধ্য করার সামিল, যা সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের পরিপন্থী।

SC On Vande Mataram: বন্দে মাতরম পুরো না গাইলে কী শাস্তি? বৈধতা নিয়ে কেন্দ্রের কাছ থেকে সুপ্রিম জবাব তলব
সুপ্রিম কোর্টImage Credit source: PTI

| Edited By: শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী

Sep 22, 2026 | 1:55 PM

নয়া দিল্লি: ‘বন্দে মাতরম’ গানের সব স্তবক না গাওয়া নিয়ে শাস্তির বিধান। কেন্দ্রের নির্দেশিকা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন বলে পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। কর্নাটকের সঙ্গীতশিল্পী টিএম কৃষ্ণের পেশ করা রিট পিটিশনের ভিত্তিতে মঙ্গলবার শুনানি ছিল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনোর বেঞ্চে। সুপ্রিম কোর্ট এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের জবাব তলব করে। ২ সপ্তাহের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে জবাব দিতে হবে কেন্দ্রকে।

‘প্রিভেনশন অফ ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার অ্যাক্ট, ১৯৭১’-এ (জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ আইন) ২০২৬ সালে আনা সংশোধনী এবং সরকারি অনুষ্ঠানগুলিতে জাতীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’-এর পুরো ছয়টি স্তবক গাওয়া বাধ্যতামূলক করে নির্দেশিকা জারি করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সেই নির্দেশিকার সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এই পিটিশনটি দায়ের করেন কর্নাটকের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী।  এই সংশোধনীটির মাধ্যমে জাতীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’-কেও অপরাধমূলক আইনি সুরক্ষার আওতায় আনা হয়েছে।

 শুনানি চলাকালীন বেঞ্চের মৌখিক পর্যবেক্ষণ, ‘জাতীয় সঙ্গীত’ কোনটি হবে তা নির্ধারণ করা আদালতের এক্তিয়ারভুক্ত নয়। তবে আদালত জানায়, ‘বিজোয় ইমানুয়েল’  মামলায় স্বীকৃত ‘বিবেকবান আপত্তিকারী’কে  গাইতে বাধ্য না হওয়ার অধিকার সুরক্ষিত আছে কি না, তা তারা খতিয়ে দেখবে। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘বিজোয় ইমানুয়েল’ মামলার নজিরটি মেনে চলা হবে। অর্থাৎ ধর্মীয় কারণে গান না গাওয়ার জন্য কাউকে ফৌজদারি শাস্তি পেতে হবে না।

মামলাকারীর বক্তব্য, ‘বন্দে মাতরম’-এর শেষ চারটি স্তবক। কৃষ্ণের যুক্তি, এই স্তবকগুলিতে দুর্গা, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর মতো হিন্দু দেব-দেবীদের স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে এবং নাগরিকদের তা গাইতে বাধ্য করা প্রকৃতপক্ষে ধর্মীয় ও আদর্শগতভাবে বাধ্য করার সামিল, যা সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের পরিপন্থী। পিটিশনে দাবি করা হয়েছে যে, উক্ত পদক্ষেপগুলি সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ‘ধর্মনিরপেক্ষতার’ নীতিকে লঙ্ঘন করে।

আবেদনকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী ড. এস মুরলীধর সওয়াল করে বলেন, সংশোধনীতে ‘জাতীয় সঙ্গীত’ বলতে কী বোঝায় তার কোনও স্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়নি। এবং এই অস্পষ্টতার অপব্যবহার হতে পারে। তিনি আরও জানান যে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই সম্পর্কিত অফিস মেমোরেন্ডামটি গ্যাজেটে প্রকাশিত হয়নি।

এই পর্যায়ে বিচারপতি বাগচী মন্তব্য করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইতিবাচক ধর্মনিরপেক্ষতার মডেল হিসেবে দেখা হলেও তাদের জাতীয় সঙ্গীতে “In God we Trust” (ঈশ্বরে আমাদের বিশ্বাস) বাক্যটি ব্যবহার করা হয়। এরপর ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা মধ্যস্থতা করে পিটিশনটির প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “ধর্মনিরপেক্ষতা এত সংকীর্ণ হতে পারে না।”

মুরলীধর পুনরায় উল্লেখ করেন যে, সংশোধনীতে ‘জাতীয় সঙ্গীত’-এর কোনও সংজ্ঞা নেই। জবাবে বিচারপতি বাগচী বলেন যে, প্রথাগতভাবে এটি সবসময় ‘বন্দে মাতরম’ হিসেবেই বোঝা গিয়েছে। মুরলীধর তৎক্ষণাৎ বলেন, “শুধু প্রথম দুটি স্তবক।” প্রবীণ এই আইনজীবী আরও যোগ করেন যে, ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে এতদিন ধরে চলে আসা ধারণাটি একটি অফিস মেমোরেন্ডামের মাধ্যমে সরকার হঠাৎ বদলে দিয়েছে এবং কোনও জাতীয় সম্মতি গড়ে না তুলে তড়িঘড়ি এই সংশোধনী পাশ করা হয়েছে।

এই সময় সলিসিটর জেনারেল মন্তব্য করেন, “নকশালদের চিন্তাভাবনা অনুযায়ী আইন প্রণয়ন হতে পারে না।” সলিসিটর জেনারেলের এই ‘নকশাল’ মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন আইনজীবী মুরলীধর।

বিচারপতি বাগচী বলেন, ” আমরা এই মুহূর্তে নোটিশ জারি করছি না। তবে আমরা আশা করব যে বিজোয় ইমানুয়েল মামলায় এই আদালত কর্তৃক ঘোষিত দেশের প্রচলিত আইনটিই এই আইনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।”

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us