
লখনউ: সোমবার বিকেলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে ফের রেলমন্ত্রকের দায়িত্ব পেয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। দায়িত্ব নেওয়ার পরই বড় চ্যালেঞ্জের মুকে পড়লেন তিনি। গত এক বছরে ওড়িশার বালেশ্বরের দুর্ঘটনা-সহ বহু রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে রেলের সংরক্ষিত কামড়ায় অসংরক্ষিত টিকিটের যাত্রীদের ভিড়ের ছবি-ভিডিয়ো। এই সব নিয়ে সমালোচনার মুখে রেলমন্ত্রকের মোক্ষম জবাব ছিল ‘বন্দে ভারত’। আধা উচ্চগতির এই বিলাসবহুল ট্রেনগুলিতে একেবারে সেরা মানের পরিষেবার প্রতিশ্রুতি দেয় রেল মন্ত্রক। তবে এবার, সেই সাধের বন্দে ভারতও পরিণত হল বনগা লোকালে। একেবারে বনগা লোকালের মতোই যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেল বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মতো প্রিমিয়াম ট্রেনে। স্বাভাবিকভাবেই এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনরা তাঁদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রেলের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়াতেই জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের এই বিষয়ে অবগত করা হচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে দুটি ভিডিয়ো। একটি ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, লখনউ স্টেশনে দাঁড়িয়ে রয়েছে লখনউ-দেরাদুন বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। বাইরে থেকেই দেখা যাচ্ছে, ট্রেনটির কামড়া ভিড়ে ঠাসা। লোকাল ট্রেনে যেমন যাত্রীরা ঠাসাঠাসি করে দাঁড়িয়ে থাকেন, বন্দে ভারতের কামড়াতেও যাত্রীরা একই ভাবে দাঁড়িয়ে আছেন। তিল ধারণের জায়গা নেই। বন্দে ভারতের দুটি আসনের মধ্যে যাত্রীদের চলাচলের জন্য অনেকটা ফাঁকা জায়গা রাখা হয়। কিন্তু, সেই জায়গায় এত যাত্রী ভিড় করেছেন, যে অন্যান্য যাত্রীদের সেখান দিয়ে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব। ভিড়ে উপচে পড়া কোচেও কিছু জায়গা খোঁজার চেষ্টা করছেন যাত্রীরা। বাইরের কমলা রংটা না দেখলে, যে কেউ মনে করতে পারেন এটা কোনও সাধারণ ট্রেনের জেনারেল কম্পার্টমেন্টের দৃশ্য।
ভিডিয়োটি শেয়ার করে এক নেটিজেন লিখেছেন, “এখন সবকটি ট্রেনেই জবরদখল করা সম্পূর্ণ হল।” বিশেষ মর্যাদার বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের এই অপ্রত্যাশিত দৃশ্য, মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে জনসাধারণের মধ্যে। কেউ কেউ টিকিটবিহীন যাত্রীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। রেলের টিকিট যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ আঙুল তুলেছেন সরাসরি রেলমন্ত্রক ও রেলমন্ত্রীর দিকে। এক ব্যবহরারকারী বলেছেন, “টিকিটবিহীন যাত্রীরা প্রিমিয়াম ট্রেনে ভ্রমণ করছেন? সিরিয়াসলি? যারা তাদের টিকিটের জন্য টাকা দিয়েছেন, তাদের জন্য এটা ন্যায়সঙ্গত নয়।” একজন বলেছেন, “বন্দে ভারত ট্রেনের জন্য বিশেষ রেল পুলিশের ব্যবস্থা করা দরকার। না-হলে হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কিনে লাভ কী?” আর একজন বলেছেন, “আমাদের পুতুল রেলমন্ত্রীর দরকার নেই, আমাদের একটি নতুন রেলওয়ে দরকার যা অন্তত জবাবদিহি করবে।”
যাত্রীদের সহায়তার জন্য রেলের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট হল রেলওয়ে সেবা। এই ভাইরাল পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় তারা বলেছে, “আমরা বিষয়টি শুনেছি এবং সাহায্য করার জন্য আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করব। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হচ্ছে।”