
যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন নামছে ৩০-এর দিকে। অনুমোদিত লক্ষ্য ৪২। এই ঘাটতি মেটাতে এবার বছরে ৩৬ থেকে ৪০টি যুদ্ধবিমান বায়ুসেনায় অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজন। ৯৪তম বায়ুসেনা দিবসের আগে এমনই স্পষ্ট বার্তা দিলেন বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিং।
পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে পারলে বছরে ৩০ থেকে ৩৫টি যুদ্ধবিমান হাতে আসতে পারে। HAL বছরে ২০টি LCA Mk1A সরবরাহ করলেও এবং MRFA চুক্তি চলতি বছরের মধ্যে চূড়ান্ত হলে সংখ্যাটা দাঁড়াবে প্রায় ৩২। এর সঙ্গে ১২টি অতিরিক্ত Su-30 কেনার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বছরে আরও ৬টি বিমান যুক্ত হতে পারে। ফলে বার্ষিক অন্তর্ভুক্তি পৌঁছতে পারে ৩০ থেকে ৪০টির মধ্যে।
রাফায়েলের পর আরও বড় যুদ্ধবিমান পরিকল্পনা
MRFA প্রকল্পে প্রস্তাবিত ১১৪টি Rafale যুদ্ধবিমানও বায়ুসেনার শক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একইসঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য LCA Mk1A, LCA Mk2, Rafale এবং দেশীয় পঞ্চম প্রজন্মের AMCA—এই চার ধরনের যুদ্ধবিমানের সমন্বয়ে শক্তিশালী ফাইটার ফ্লিট গড়ার লক্ষ্য রয়েছে।
চিন-পাকিস্তানের J-35 নিয়ে উদ্বেগ
চিনের কাছ থেকে পাকিস্তানের পঞ্চম প্রজন্মের J-35 স্টেলথ যুদ্ধবিমান সংগ্রহের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বায়ুসেনা প্রধান। তবে তাঁর স্পষ্ট বার্তা—শুধু একটি আধুনিক যুদ্ধবিমান হাতে থাকলেই যুদ্ধের ফল নির্ধারিত হয় না। আসল শক্তি নির্ভর করে গোটা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সেই প্ল্যাটফর্মকে কতটা কার্যকরভাবে যুক্ত করা যাচ্ছে তার উপর।
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গ টেনে তাঁর দাবি, পাকিস্তানের হাতে থাকা বিভিন্ন আধুনিক প্ল্যাটফর্ম অতীতে বড় কোনও সাফল্য এনে দিতে পারেনি। একইভাবে ভারতও নিজেদের নতুন যুদ্ধবিমান ও অস্ত্র ব্যবস্থাকে সমন্বিত করে এই ধরনের হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত।
আকাশযুদ্ধের আসল অস্ত্র—BVR মিসাইল
শুধু যুদ্ধবিমান নয়, এবার দূরপাল্লার BVR বা Beyond Visual Range সক্ষমতা বাড়ানোর উপরও বিশেষ জোর দিচ্ছে বায়ুসেনা। সামনে দেশীয় Astra-র একাধিক সংস্করণ। Astra Mk1 ইতিমধ্যেই উৎপাদনে। Mk2-এর উন্নয়ন চলছে, আর Mk3 রয়েছে গবেষণার পর্যায়ে।
Astra Mk1-এর পাল্লা ৮০ থেকে ১১০ কিলোমিটার। Mk2-এর পাল্লা প্রায় ২০০ কিলোমিটার করার লক্ষ্য। আর Astra Mk3-এ Solid Fuel Ducted Ramjet প্রযুক্তির মাধ্যমে ৩৫০ কিলোমিটারেরও বেশি পাল্লা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দেশীয় Astra-র পাশাপাশি দীর্ঘপাল্লার বিদেশি ক্ষেপণাস্ত্রও সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে রাশিয়ার R-37M এবং ফরাসি Meteor।
AMCA-তে দেরি নয়, বিকল্পও প্রস্তুত
পঞ্চম প্রজন্মের AMCA প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পক্ষেও জোরালো বার্তা দিয়েছেন বায়ুসেনা প্রধান। প্রকল্পে দেরি হলে বিকল্প পথ নিয়েও ভাবতে হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। রাশিয়ার Su-57-এর প্রস্তাব রয়েছে, যদিও এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
ড্রোন বাড়বে, আলাদা Drone Force নয়
আধুনিক যুদ্ধের চেহারা বদলাচ্ছে। বাড়ানো হচ্ছে ড্রোন ও লয়টারিং মিউনিশনের ব্যবহার। তবে এর জন্য আলাদা ‘ড্রোন ফোর্স’ তৈরির প্রয়োজন নেই বলেই জানিয়েছেন বায়ুসেনা প্রধান।
বায়ুসেনা প্রধান মূলত বার্তা দিতে চেয়েছেন, আকাশযুদ্ধে কোনও ফাঁক রাখতে নারাজ ভারতীয় বায়ুসেনা। যুদ্ধবিমানের সংখ্যা বাড়ানো থেকে শুরু করে দূরপাল্লার BVR ক্ষেপণাস্ত্র, পঞ্চম প্রজন্মের AMCA এবং ড্রোন—প্রতিটি স্তরেই দ্রুত শক্তি বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে।