
নয়াদিল্লি ও তেহরান : ফের অবরুদ্ধ হরমুজ়। লেবাননের উপর ইজ়রায়েলের হানার পরই তেহরান হরমুজ় বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু, এবার হরমুজ়ের ভবিষ্যত কী? গতকাল যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল দেশগুলি। তেলের দাম কমে। শেয়ার বাজারও কিছুটা চাঙ্গা হয়। কিন্তু, নতুন করে হরমুজ় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই প্রণালীর ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এখনও ভারতের একাধিক জাহাজ হরমুজ়ে আটকে রয়েছে। জাহাজ মন্ত্রক সূত্রে খবর, বুধবার হরমুজ় প্রণালীতে কোনও জাহাজ চলাচল করেনি। এদিকে ট্রাম্পের নতুন দাবি, হরমুজ়ে জাহাজ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করবে আমেরিকা। জাহাজগুলির নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, ইরান সেনার সশস্ত ঘেরাটোপে রয়েছে হরমুজ় প্রণালী। জাহাজ চলাচলে টোল বসানোর সিদ্ধান্তে অনড় তেহরানও। সূত্রের খবর, ইরান ও ওমান-দুই দেশই কর নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এই অবস্থায় হরমুজ়ের ভবিষ্যৎ এখনও অন্ধকারেই।
শুধু তাই নয়, ভারতের তেলবাহী জাহাজগুলি হরমুজ় দিয়ে আসছিল ধীরে ধীরে। এখনও ১০টির বেশি জাহাজ আটকে রয়েছে বলে খবর। ইরান কি হরমুজ় পুরোপুরি ভারতের জন্যও বন্ধ করে দিয়েছে? তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, এখন কোনও জাহাজ চলাচল করছে না বলেই খবর। সেক্ষেত্রে ভারতের উপর আবারও বড় প্রভাব পড়তে চলেছে। আবারও গ্যাস সংকট তৈরি হতে পারে। এমনই আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক মহল।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে ইরান-আমেরিকা সংঘাত। প্রায় ৪০ দিন পার করেছে দুই দেশের যুদ্ধ। তবে দুই দেশ দুই সপ্তাহের জন্য সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার শর্তে রাজি হয়েছে ইরান। তারপরই এই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে ইজরায়েলও সমর্থন করেছে। শোনা যাচ্ছিল, ১০ এপ্রিল ইরান-আমেরিকা শান্তি চুক্তি আলোচনা হতে পারে। কিন্তু, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইজ়রায়েল লেবাননে হামলা করেছে। তেহরানের দাবি, ইজ়রায়েল মাত্র ১০ মিনিটে ১০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে। তাই হরমুজ় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইরানের তরফে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, ইজ়রায়েলেও ভয়ঙ্কর হামলা চালাবে ইরান। স্বাভাবিকভাবেই যুদ্ধ বিরতির ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।