
নয়া দিল্লি: সপ্তাহের প্রথম দিন। ভোররাতে ঘুমে কাঁদা ছিলেন সকলে। হঠাৎই কাঁপতে শুরু করল খাট, আসবাবপত্র। ঘর থেকে বেরোনোর সময় পাননি, তার আগেই তাসের ঘরের মতো গুঁড়িয়ে গিয়েছিল বাড়িঘর। সোমবার ভোররাতের ভয়াবহ ভূমিকম্পে (Earthquake) চোখের নিমেষেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে তুরস্ক (Turkey) ও সিরিয়া (Syria)। রিখটার স্কেলে ৭.৮ মাত্রার প্রথম ভূমিকম্পের কয়েক মিনিট পরই ফের ভূমিকম্প হয়, এবার ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭.৫। উদ্ধারকাজ শুরু হওয়ার ঘণ্টাদুয়েক পরও শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দুই দেশ। এরপরে শতাধিকবার আফটারশকও অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের কারণে রাতারাতি মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে তুরস্ক, সিরিয়া। এখনও অবধি মৃতের সংখ্যা ২৮ হাজার পার করে গিয়েছে। এই সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। তুরস্ক, সিরিয়ার এই পরিস্থিতিতে যখন সে দেশের বাসিন্দাদের জন্য আমরা সকলে প্রার্থনা করছি, সেখানেই মনে ঘুরে ফিরে একটা প্রশ্নও উঠে আসছে যে আমাদের দেশেরও কি একই পরিণতি হতে পারে? ভূমিকম্প নিয়ে যদি আগে সতর্ক না হওয়া যায়, তবে ভেঙে গুড়িয়ে যেতে পারে কোন কোন রাজ্যগুলি?
ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্প নিয়ে ভারতের সতর্ক থাকাই উচিত, কারণ দেশের একটা বড় অংশই ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। সিসমোলজিস্টরা জানিয়েছেন, দেশের ৫৯ শতাংশ অঞ্চল ভূমিকম্প প্রবণ। এরমধ্যে ১১ শতাংশ অঞ্চল ভেরি হাই রিস্ক জ়োন (Very High Risk Zone) বা অত্যন্ত ঝুঁকিপ্রবণ জ়োন-৫ এর অধীনে পড়ে, ১৮ শতাংশ হাই রিস্ক জ়োন (High Risk Zone) বা ঝুঁকিপ্রবণ জ়োন-৪ এবং ৩০ শতাংশ মাঝারি ঝুঁকি প্রবণ (Moderate Risk Zone) জ়োন-৩-র অধীনে পড়ে।
দেশের যে রাজ্যগুলিতে ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা সবথেকে বেশি, সেগুলি হল গুজরাট, উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ, বিহার সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্য। এই সমস্ত রাজ্যই সিসমিক জ়োন-৫ এর অধীনে রয়েছে, অর্থাৎ এই অঞ্চলে ভূমিকম্পের সম্ভাবনা সবথেকে বেশি।
হিমালয়ের পশ্চিম ভাগের বিভিন্ন রাজ্য, যেমন গোটা জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ, উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশের অধিকাংশ অংশ, পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অংশ, সিকিম, গুজরাট ও মহারাষ্ট্র সিসমিক জ়োন-৪ এর মধ্যে পড়ে। এখানেও ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
ভারতে যদি ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়, তবে যে শহরগুলি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা সবথেকে বেশি, সেগুলি হল গুয়াহাটি, শ্রীনগর, পোর্টব্লেয়ার। এগুলি সিসমিক জ়োন-৫ এর মধ্যে পড়ে। অর্থাৎ এই শহরগুলিতে ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা সবথেকে বেশি।
দিল্লি, কলকাতা, পটনা, সিমলা, লুধিয়ানা, অমৃতসর, চণ্ডীগঢ়, দার্জিলিং, গাজিয়াবাদ, অম্বালা, দেহরাদুন, মোরাদাবাদ, নৈনিতাল ও রুরকি সিসমিক জোন-৪ এর মধ্যে পড়ে। এই শহরগুলিও অত্যন্ত জনবহুল হওয়ায়, ভূমিকম্পে ভয়ঙ্কর ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।