
নয়া দিল্লি: চাইনিজ হোক বা কষা মাংস, চাটনি বা সস, তাতে রসুন ছাড়া ভাবাই যায় না। সামান্য রসুনেই বদলে যেতে পারে গোটা রান্নার স্বাদ। কিন্তু, জানেন কি রসুনের নামেই একটা গোটা শহর রয়েছে। যাকে বলা হয় ‘গার্লিক সিটি’ অর্থাৎ রসুনের শহর। অনেকেই হয়তো ভাবছেন, এমনও নাম হতে পারে? আর হলেও তার কারণই বা কী?
মধ্যপ্রদেশের মন্দসৌর শহর। এই জায়গাকেই ভারতের গার্লিক সিটি বা রসুনের শহর বলা হয়। আসলে এই শহরে বহু মানুষের আয়ের উৎস হল রসুন। এখানে বিপুল পরিমাণে রসুন উৎপাদন ও বেচাকেনা হয়। রসুনের জন্য এতটাই বিখ্যাত যে, এই শহরকে গার্লিক সিটি নাম দেওয়া হয়েছে।
মন্দসৌরে উৎপাদিত রসুন মূলত স্বাদ, এর উন্নত মানের কোয়া এবং দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য হওয়ার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। জেলার অর্থনীতিতেও রসুন চাষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মধ্যপ্রদেশ দেশের অন্যতম প্রধান রসুন উৎপাদনকারী রাজ্য। আর সেই রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রসুন উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলির মধ্যে অন্যতম মন্দসৌর। বছরের পর বছর ধরে এখানকার কৃষি ও কৃষকদের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে রসুন।
মন্দসৌরের রসুনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এর তীব্র স্বাদ ও দীর্ঘদিন ভাল থাকার ক্ষমতা। এখানকার রসুনের ঝাঁঝালো গন্ধ এবং তেলের পরিমাণও তুলনামূলক বেশি। পাশাপাশি মন্দসৌরের মাটি ও জলবায়ু রসুন চাষের পক্ষে উপযোগী। স্থানীয় কয়েকটি প্রজাতির রসুন দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যায়। ফলে কৃষকদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের কাছেও এর চাহিদা রয়েছে।
শুধু কাঁচা রসুন হিসেবেই নয়, এখানকার উৎপাদিত রসুন থেকে বিভিন্ন ধরনের পণ্যও তৈরি করা হয়। যেমন রসুনের গুঁড়ো, রসুনের তেল, পেস্ট, আচার এবং শুকনো রসুনের ফ্লেক্স তৈরিতেও এটি ব্যবহৃত হয়। ফলে বিভিন্ন বাজারে মন্দসৌরের রসুনের চাহিদা তৈরি হয়েছে এবং এর বাণিজ্যিক মূল্যও বেড়েছে।
মধ্যপ্রদেশ সরকারের ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট’ কর্মসূচির আওতায় মন্দসৌরের নির্দিষ্ট পণ্য হিসেবে রসুনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। গোটা জেলাজুড়ে ব্যাপক হারে রসুনের চাষ হয় এবং বহু স্থানীয় কৃষকের জীবিকা এর উপর নির্ভরশীল। তাই ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রসুন উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে মন্দসৌরের নাম উঠে আসে। দীর্ঘদিন ধরে রসুনের সঙ্গে এই জেলার পরিচিতি এমনভাবে জড়িয়ে গিয়েছে যে, মন্দসৌর পরিচিত হয়ে উঠেছে ভারতের ‘গার্লিক সিটি’ নামে।