
নয়া দিল্লি: সংরক্ষণ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। সংরক্ষণ ও সামাজিক গতিশীলতা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ রাখে। শীর্ষ আদালতের তরফে প্রশ্ন তোলা হয় যে পরিবারগুলি ইতিমধ্যেই শিক্ষাগত ও আর্থিক সাফল্য অর্জন করেছে, তাদের ক্রমাগত কোটা বা সংরক্ষণের (Resrvation) কী প্রয়োজন?
অনগ্রসর শ্রেণির মধ্যে থাকা ক্রিমি লেয়ার (আর্থিক ও সামাজিকভাবে সচ্ছল)-দের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তোলে যে ওই শিশুর সংরক্ষণের কী প্রয়োজন, যার মা-বাবা দুজনেই আইএএস অফিসার?
শিক্ষাগত ও আর্থিক অগ্রগতি সমাজে গতিশীলতা আসে, এ কথা উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ বলে, “যদি মা-বাবা আইএএস অফিসার হন, তাহলে সন্তান সংরক্ষণ চাইবে কেন? আর্থিক ও শিক্ষাগত ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সামাজিক অগ্রগতি হয়। তারপরেও যদি সন্তানের জন্য সংরক্ষণ চাওয়া হয়, তাহলে আমরা কখনও এই বৃত্ত থেকে বের হতে পারব না। আমাদের এই বিষয় নিয়েও ভাবতে হবে।”
শীর্ষ আদালতের তরফে আরও বলা হয় যে একাধিক সরকারি অর্ডারে ইতিমধ্যেই এই ধরনের অগ্রসর বা সচ্ছল অংশগুলিকে সংরক্ষণের সুবিধা থেকে বাদ দেওয়ার বিধান রয়েছে, তবে এই বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তগুলিকেই এখন চ্যালেঞ্জ জানানো হচ্ছে।
সংরক্ষণ সিস্টেম নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নাগারত্ন বলেন, “এই পড়ুয়াদের অভিভাবকদের ভালো চাকরি রয়েছে, তারা ভালো আয় করেন। তারপরও সন্তানরা সংরক্ষণ চাইছে। তাদের এই সংরক্ষণের সিস্টেম থেকে বেরতে হবে।”
সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ আরও মন্তব্য করে যে পরিবারগুলি যখন সংরক্ষণের সুবিধার মাধ্যমে শিক্ষাগত এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি নির্দিষ্ট স্তরে পৌঁছে যায়, তখন পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেত্রে এই যোগ্যতার একটি পুনঃমূল্যায়ন হওয়া আবশ্যক। বিচারপতি বলেন, “কোথাও একটা ভারসাম্য থাকা উচিত।”
আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মধ্যে বিভাজনের উল্লেখও করা হয়। বিচারপতি নাগারত্ন বলেন, “আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির জন্য কোনও সামাজিক অনগ্রসরতা নেই, বরং কেবল আর্থিক অনগ্রসরতাই আছে।”
সুপ্রিম কোর্ট এই আবেদন নিয়ে নোটিস জারি করেছে এবং সব পক্ষকে তাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে বলা হয়েছে।