
নয়া দিল্লি: প্রায় ১৪ মাস ধরে জেলে বন্দি থাকা সত্ত্বেও বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হয়নি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও চার্জ গঠনও করা যায়নি। বিহারের এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করল বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি শিল নাগুর ডিভিশন বেঞ্চ। কেন এত দিন অভিযুক্তকে গয়া আদালতে হাজির করা হয়নি, তা জানতে চেয়ে বিহার পুলিশের কাছে রিপোর্ট তলব করল শীর্ষ আদালত। একই এই ঘটনাকে ‘অনভিপ্রেত’ আখ্যা দিয়ে বিহার পুলিশ এবং গয়া আদালতের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তলব করেছে শীর্ষ আদালত।
মামলার ব্যাকগ্রাউন্ড
দেব কুমার পাসওয়ান নামে অভিযুক্ত ব্যক্তি বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ)-এর একটি মামলায় অভিযুক্ত। পাটনা হাইকোর্ট জামিন খারিজ করায় সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন তিনি। ধৃতের বিরুদ্ধে ইউএপিএ, ভারতীয় দণ্ডবিধি (IPC), অস্ত্র আইন ও বিস্ফোরক আইনে মামলা রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে শুনানি চলাকালীন অভিযুক্তের আইনজীবী আদালতকে জানান, বিহার সরকার নিজের হলফনামায় জানিয়েছে, অভিযুক্তকে আদালতে হাজির না করাতে পারার জন্যই চার্জ গঠন করা যায়নি। অর্থাৎ, আদালতে হাজির না করার কারণেই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এগোয়নি।
এই বক্তব্য শুনে বিস্ময় প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ২০২৫ সালের ১০ মে অভিযুক্ত আদালতে আত্মসমর্পণ করার পরও, কেন টানা ১৪ মাস ধরে তাঁকে ট্রায়াল কোর্টে হাজির করা হয়নি তা বোধগম্য নয়। আদালতের এই প্রশ্নের কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি বিহার সরকারের আইনজীবী। এমনকি, গয়া কোর্টও কেন অভিযুক্তকে হাজির করার নির্দেশ দেয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে শীর্ষ আদালত।
এই ঘটনায় তদন্তকারী আধিকারিককে প্রকৃত কারণ জানিয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি, পটনা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে সংশ্লিষ্ট গয়া আদালতের কাছ থেকে রিপোর্ট সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সেই রিপোর্ট সিল করা খামে সুপ্রিম কোর্টে জমা দিতে হবে।
এদিকে, মামলার মূল অভিযুক্ত ইতিমধ্যেই জামিন পেয়েছেন বলে আদালতকে জানান আইনজীবীরা। এটা শোনার পর কোর্টের পর্যবেক্ষণ, মামলাটি দেব কুমারের অনুকূলেই রয়েছে। এরপরই তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিনে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। আগামী ১৭ নভেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে সুপ্রিম কোর্টে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে গয়ার ডুমারিয়া থানায় এই মামলা দায়ের হয়েছিল। ইউএপিএ ছাড়াও ভারতীয় দণ্ডবিধি, বিস্ফোরক পদার্থ আইন এবং অস্ত্র আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মাওবাদী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য হওয়ার অভিযোগ তুলেছিল পুলিশ।