
গুজরাট : নদীর ধার। আলুথালু বেশে বসে রয়েছেন এক মহিলা। তাঁর চোখ স্থির। সামনে পড়ে রয়েছে দেহ। থেঁতলানো দেহ। রক্তে ভেসে যাচ্ছে রাস্তা। রাত থেকে সকাল। স্বামীর দেহ আগলে বসে রইলেন মহিলা। অথচ স্বামীকে খুনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধেই। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাটের নর্মদা জেলায়। ইতিমধ্যেই ওই মহিলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঠিক কী ঘটেছিল?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তিলকওয়াড়া তালুকার ভোরাগাঁও গ্রামের কাছে ঘটনাটি ঘটেছে। মৃত ব্যক্তির নাম প্রভীনভাই রণসিংহ নায়ক (৩৫)। জানা গিয়েছে, রাতের বেলায় স্ত্রী রেখাবেন নায়কের সঙ্গে বাজার থেকে ফিরছিলেন ওই ব্যক্তি। ফেরার পথে হেরণ নদী-র কাছে হঠাৎ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তুমুল বচসা শুরু হয়। একটা সময় দু’জনের বচসা চরমে পৌঁছয়। অভিযোগ, রাগের মাথায় স্ত্রীকে চড়ও মারেন ওই ব্যক্তি। তারপরই হঠাৎ রাস্তার ধারে পড়ে থাকা পাথর তুলে মাথায় আঘাত করেন স্ত্রী। বারবার আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। থেঁতলে যায় মাথা, রক্তে ভেসে যায় রাস্তা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর পালানোর চেষ্টা না করে ওই মহিলা স্বামীর দেহের পাশেই সারারাত বসে থাকেন। পরদিন সকালেও তাঁকে একই অবস্থায় দেখা যায়। দুপুরের দিকে বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় বাসিন্দাদের। তারপরই তারা পুলিশকে খবর দেয়। এরপর তিলকওয়াড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং অভিযুক্ত মহিলাকে গ্রেফতার করে। পুলিশের ধারণা,তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ওই মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।