
কুলু: বৃহস্পতিবার (৩০ মে), লোকসভা নির্বাচনের প্রচারের শেষ দিনে, হিমাচল প্রদেশের হামিরপুরের তাল স্টেডিয়ামে আয়োজিত, বিজেপির বিজয় সংকল্প জনসভায় যোগ দিলেন, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। যোগী বলেন, চলতি লোকসভা নির্বাচন রাম ভক্ত এবং রাম বিরোধীদের মধ্যে লড়াইয়ে পর্যবসিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিশ্বাসঘাতক, সন্ত্রাসবাদী, নকশালবাদীরাই রাম-বিরোধী। যারা ভারতের উন্নয়নে বাধা দেয় এবং দরিদ্রদের অধিকার হরণ করে, তারাই রাম-বিরোধী। আর রামভক্ত হল তারাই, যাদের কাছে ভারতের স্বার্থ সর্বাগ্রে। তিনি আরও দাবি করেন, কংগ্রেসের মধ্যে মুঘল বাদশা, ঔরঙ্গজেবের আত্মা ভর করেছে। তবে, দেশ শাসন রাম ভক্তরাই করবে।
উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, “মোদীর ১০ বছরের মেয়াদে এক নতুন ভারতের জন্ম হয়েছে। বিমান, রেল, সড়ক ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন এক যুগের সূচনা হয়েছে। দরিদ্রদের কল্যাণে একের পর এক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের সীমান্তগুলিও এখন সুরক্ষিত। হিমাচলের যুবকরা সীমান্তে সজাগ পাহাড়া দিচ্ছে। আগে কংগ্রেস সরকার সন্ত্রাসবাদের দায় ঝেড়ে ফেলত। দেশের জায়গায় জায়গায় সন্ত্রাসবাদী হামলা হত। কংগ্রেসকর্মীরা বলতেন সন্ত্রাসবাদীরা সীমান্তের ওই পাড় থেকে এসেছে। আজ সন্ত্রাসবাদ ও নকশালবাদের অবসান হয়েছে। এখন কোথাও আতশবাজি ফাটলেও, পাকিস্তান শুরুতেই বলে আমরা এটা করিনি। এটাই নতুন ভারত। প্রথমে হামলা করে না। কিন্তু কেউ হামলা করলে ছাড়ে না।”
নরেন্দ্র মোদী সরকার ৮০ কোটি ভারতবাসীকে বিনামূল্যে রেশন দিচ্ছে, সেই কথাও উল্লেখ করেন যোগী। তিনি বলেন, “ভারতে ৮০ কোটি মানুষকে বিনামূল্যে রেশন দেওয়া হচ্ছে। পাকিস্তানের ২৩ কোটি জনগণ খিদেয় মারা যাচ্ছে। কেন দেশের বোঝা হয়ে আছেন কংগ্রেসিরা? পাকিস্তানে চলে যান। সেখানে কেউ ভিক্ষাও দেবে না।” এছাড়া, কংগ্রেসের ইস্তেহারকে মুসলিম লিগের ইস্তেহার বলে আখ্যা দিয়েছেন যোগী। তিনি বলেন, ১৯৪৬ সালে মুসলিম লিগ যা করতে চেয়েছিল, কংগ্রেস আজ সেই কাজ করতে চাইছে। কংগ্রেস দেশে তালিবানি শাসন জারি করতে চায়। ভারত শাসিত হবে ড. আম্বেদকরের সংবিধান দ্বারা, শরিয়া আইনে নয়।”
কংগ্রেস সাধারণ মানুষের সম্পত্তি কেড়ে নিতে চায় বলেও দাবি করেছেন যোগী। তিনি বলেন, “কংগ্রেস জনগণের সম্পত্তি কেড়ে নিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের হাতে তুলে দিতে চায়। আওরঙ্গজেবের আত্মা কংগ্রেসে ভর করেছে। কিন্তু, আজ দেশে জিজিয়া কার্যকর হবে না। স্বাধীন ভারতে কোনও ঔরঙ্গজেবের জন্ম হবে না। উত্তর প্রদেশে এই ধরনের লোকদের কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হয়।” তিনি আব়ও বলেন, “অযোধ্যায় রাম মন্দির তৈরি হয়েছে। আপনারা কুলুতে বিজয়া দশমীর আয়োজন করেন। আজ নতুন অযোধ্যা দেখা যাবে। অযোধ্যায় রাম লালা, কাশী ধামে বিশ্বনাথ, এখন প্রস্তুতি চলছে মথুরার। চোখের সামনে বদলে যাচ্ছে ভারত।”
য়োগীর জনসভায় উপস্থিত ছিলেন মান্ডির বিজেপি প্রার্থী কঙ্গনা রানাওয়াত, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর প্রমুখ। কঙ্গনা রানাওয়াতের ভূয়সী প্রশংসা করে, তিনি তাঁকে বিপুল ভোটে জয়ী করে সংসদে পাঠানোর আহ্বান জানান। যোগী বলেন, “হিমাচলের এই মেয়েটির মধ্যে রানী লক্ষ্মী বাইয়ের সাহসিকতা রয়েছে। মুম্বইয়ে ধ্বনিত হচ্ছে তার কণ্ঠ। আর মোদীজির কণ্ঠ ধ্বনিত হচ্ছে সারা ভারতে। চারিদিক থেকেই বিপাকে কংগ্রেস। যে রামকে এনেছে, আমরা তাকেই আনব। দিল্লিতে রাজত্ব করবে একমাত্র রামভক্ত।”