
শিয়ালদহ: রাজনৈতিক পালাবদলে খালি এবার শিয়ালদহ প্ল্যাটফর্ম (sealdah station)। ১ থেকে ২১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে হকার মুক্ত। সবক’টি সাধারণ যাত্রীদের চলাচলের জন্যই এই সিদ্ধান্ত নিল শিয়ালদহ ডিভিশন। স্বাগত জানালেন সাধারণ যাত্রীরা।
প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ এর বেশি হকার মুক্ত করা হল প্ল্যাটফর্মগুলি থেকে। নিত্যদিন শিয়ালদহ ডিভিশনের মেন এবং দক্ষিণ শাখা থেকে প্রায় ৯ লক্ষ যাত্রী যাতায়াত করেন।
শিয়ালদহ রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রতিদিন প্রায় ৮৮৫ থেকে ৯২১টি শহরতলির লোকাল ট্রেন (EMU) চলাচল করে।
এছাড়া দূরপাল্লার মেইল-এক্সপ্রেস ট্রেন ও প্যাসেঞ্জার ট্রেন প্রায় ১৫৮টি ট্রেন মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৫৯১টিরও বেশি ট্রেন এই স্টেশনটি দিয়ে যাতায়াত করে।
শিয়ালদহ কর্তৃপক্ষের দাবি, ব্যাঙের ছাতার মত একের পর এক হকার বসে যাচ্ছিল।
মূলত, বিগত শাসকদলের ইউনিয়ন গুলির দাপটে এই হকারদের তোলা সম্ভব হয়নি।
কিন্তু পালাবদলের পরই শিয়ালদহ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মকে সম্পূর্ণ হকার মুক্ত করা সম্ভবপর হল।
শিয়ালদহ ডিআরএম অফিস সূত্রের খবর, হকারদের প্রথমে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। তারপর সময় দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়ের মধ্যে অনেকেই নিজেদের দোকান বা পসরা নিয়ে উঠে চলে গিয়েছেন। যাঁরা প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে টালবাহানা করছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মূলত, প্ল্যাটফর্ম যাত্রীদের চলাচলের জন্য। আর সেখানেই বারবার প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছিল একের পর এক হকার বসে যাওয়ায়। এমনকি, তাতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলেন বিভিন্ন যাত্রী। বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের বক্তব্যে সেটাও পরিষ্কার করেছিলেন রেলের সাধারণ যাত্রীরা। কিন্তু রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার জেরে সেই হকার মুক্ত করা সম্ভবপর হচ্ছিল না। এমনকি অমৃত ভারত প্রকল্পে শিয়ালদহ স্টেশনকে উন্নীতকরনের ক্ষেত্রেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল এই অবৈধ দখলদারি।
প্ল্যাটফর্মকে নোংরা করা বা অল্প অল্প করে জায়গা দখল করে নেওয়া, রীতিমতো নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেই জায়গা থেকে মুক্ত হতে পেরেছে শিয়ালদহ স্টেশন, দাবি পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজারের।