
কলকাতা: চেনা ছকের বাইরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে গান শোনালেন চার গায়ক! গান শোনালেন কবীর সুমন, নচিকেতা, প্রতুল মুখোপাধ্যায় এবং ইন্দ্রনীল সেন। আলিপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সৌজন্য ভবনে বৃহস্পতিবার বিকালে বসল সৌজন্য বৈঠক। ‘দেশ বাঁচাও গণ মঞ্চ’ সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিত্বরা ছিলেন এই বৈঠকে। ছিলেন দোলা সেন, নচিকেতা, অরূপ বিশ্বাস, ইন্দ্রনীল সেন, অভিক মজুমদার, কবীর সুমন, হরনাথ চক্রবর্তী, ফিরহাদ হাকিমের মতো ব্যক্তিত্বরা। তবে কোনওরকম রাজনৈতিক আলোচনা নয়, সম্পূর্ণ সাংস্কৃতিক আলোচনা চলে দীর্ঘক্ষণ। লোকসভা ভোটের আগে ‘দেশ বাঁচাও গণ মঞ্চ’ বা সুশীল সমাজ যেভাবে শাসকদলের পাশে ছিল তার জন্যই এদিনের সৌজন্য বৈঠকের আসর বসেছিল বলে খবর। এই আসরেই আচমকা নামজাদা শিল্পীদের গান শুনে মুগ্ধ মুখ্যমন্ত্রী। এদিন প্রথম শুরু করেন নচিকেতা। পরে কবীর সুমন, ইন্দ্রনীল সেন হয়ে প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের গান শোনেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে এদিনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল প্রতুল মুখাপাধ্যায়ের গান। নিজের গান নয়। শাহির লুধিয়ানভির একটা শায়েরিকে বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন কেউ। সেটিকে সুর দিয়ে আজ গান গেয়েছেন প্রতুল মুখাপাধ্যায়। কবীর সুমন শোনান রবীন্দ্রসঙ্গীত। অন্যদিকে আটের দশকে কবীর সুমন (তখন সুমন চট্টাপাধ্যায় ছিলেন) ইন্দ্রনীল সেনকে দিয়ে একটি গান গাইয়েছিলেন। সেটিই এদিন গান ইন্দ্রনীল সেন। স্মৃতিচারণাও চলে। সব মিলিয়ে গানের জমাটি আসরে এদিন একেবারে অন্য মেজাজে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে।
বর্তমানে এফএম রেডিয়োতে বাংলা গানের চল অনেকটাই কমে গিয়েছে। মোটের উপর বর্তমান প্রজন্মের রেডিয়ো শোনার অভ্যাস একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। মুঠোফোন আর সোশ্যাল মিডিয়ার বিশাল দুনিয়াতেই শোনা হয়ে যাচ্ছে গান। কিন্তু, রেডিয়োতে বাংলা গানের চল কমে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন মমতা। তাই কী করে আরও ভাল বাংলা গান মানুষের কাছে পৌঁছনো যা এদিন তা নিয়েও এই চার বিখ্যাত গায়কের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনাও করেন তিনি। একইসঙ্গে আগামীতে এই ধরনের সাংস্কৃতিক চর্চার আসর আরও বসবে বলে ঠিক হয়েছে। যদিও দিনক্ষণ সেভাবে ঠিক হয়নি বলেই জানা যাচ্ছে। মঞ্চ বড় করতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী, এমনটাই খবর সূত্রের। ২০২৬ র বিধানসভা ভোটেও যাতে সুশীল সমাজের বড় অংশকে পাশে পাওয়া যায় সে কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন মমতা, এমনটাও মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকই।