Teachers Protest: ‘অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হোক’, নাম-পদ ধরে নিবেদিতা ভবনে জমা পড়ল ৪ হাজার স্কুল শিক্ষকের নাম!

Teachers Private Tuition List: নিবেদিতা ভবনের অদূরে আয়োজিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বিপুল সংখ্যক গৃহ শিক্ষক ও শিক্ষিকারা অংশ নেন। তাঁদের হুঁশিয়ারি, শিক্ষা দফতরের নিয়ম ও আদালতের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে স্কুল শিক্ষকদের এই আইনবিরুদ্ধ কার্যকলাপ অবিলম্বে বন্ধ না হলে আগামী দিনে আন্দোলনের ঝাঁজ আরও বাড়ানো হবে।

Teachers Protest: অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হোক, নাম-পদ ধরে নিবেদিতা ভবনে জমা পড়ল ৪ হাজার স্কুল শিক্ষকের নাম!
শিক্ষকদের বিক্ষোভImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী

Sep 23, 2026 | 3:36 PM

কলকাতা: হাই কোর্টের রায় ও শিক্ষা দফতরের নির্দেশিকা অমান্য করে স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি বেআইনিভাবে প্রাইভেট টিউশন চালানোর অভিযোগ তুলে ফের সরব  ‘পশ্চিমবঙ্গ গৃহ শিক্ষক কল্যাণ সমিতি’। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং একাধিক দাবিতে নিবেদিতা ভবন অভিযান ও অদূরে জোরদার বিক্ষোভ প্রদর্শন করে সংগঠনটি। একই সঙ্গে উচ্চ আদালতের নির্দেশের তোয়াক্কা না করে গৃহ শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এমন ৪,০০০ স্কুল শিক্ষকের একটি তালিকা নিবেদিতা ভবনে জমা দেন আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারী গৃহ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মূল দাবি

আদালতের রায় ও নির্দেশিকা পালন: স্কুল শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন বন্ধের বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের রায় এবং শিক্ষা দপ্তরের জারি করা নির্দেশিকা কঠোরভাবে রাজ্যজুড়ে লাগু করতে হবে।

পুলিশি তদন্ত ও পেশাগত সুরক্ষা: বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পঠন-পাঠনের পরিবেশ বজায় রাখতে এবং পেশাদার গৃহ শিক্ষকদের জীবিকার সুরক্ষার স্বার্থে প্রাইভেট টিউশনের মাধ্যমে উপার্জিত ‘কালো টাকা’ বন্ধ করতে হবে। আইন অমান্যকারী স্কুল শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সরাসরি পুলিশি তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

আর্থিক সুবিধা বাতিল: যেসব সরকারি বা সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা বেআইনিভাবে গৃহ শিক্ষকতার সাথে যুক্ত রয়েছেন, তাঁদের সমস্ত সরকারি আর্থিক সুবিধা ও ভাতা অবিলম্বে বন্ধ করার আর্জি জানানো হয়।

বন্ধ স্কুলের শিক্ষক স্থানান্তর (CAG রিপোর্টের ভিত্তিতে): কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (CAG)-এর রিপোর্ট উল্লেখ করে সংগঠনটি জানায়, বর্তমানে রাজ্যে ৪,১৩৩টি স্কুল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে রয়েছে এবং ১৯,৫০২ জন শিক্ষককে পঠন-পাঠন ছাড়া বসিয়ে রেখে বেতন দেওয়া হচ্ছে। চরম শিক্ষক সংকটে ধুঁকতে থাকা অন্যান্য স্কুলগুলিতে এই সমস্ত শিক্ষকদের অবিলম্বে স্থানান্তরিত করে শিক্ষকের অভাব পূরণ করার দাবি জানানো হয়েছে।

নিবেদিতা ভবনের অদূরে আয়োজিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বিপুল সংখ্যক গৃহ শিক্ষক ও শিক্ষিকারা অংশ নেন। তাঁদের হুঁশিয়ারি, শিক্ষা দফতরের নিয়ম ও আদালতের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে স্কুল শিক্ষকদের এই আইনবিরুদ্ধ কার্যকলাপ অবিলম্বে বন্ধ না হলে আগামী দিনে আন্দোলনের ঝাঁজ আরও বাড়ানো হবে।

আন্দোলনকারী এক গৃহশিক্ষক হীরালাল মণ্ডল বলেন, “সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা একেবারে ব্যবসার আকারে প্রাইভেট টিউশন করাচ্ছেন। অথচ আদালতের নির্দেশ রয়েছে, তাঁরা প্রাইভেট টিউশন করতে পারবেন না। ডিআই কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। তাই যেখান থেকে নিয়োগ হয়, নিবেদিতা ভবনে আমরা এসেছি। যাতে তদন্ত করা হয়, চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা করুক প্রশাসন।” আরেক গৃহশিক্ষক বলেন, “মোটা মোটা বেতন পান স্কুল থেকে, তবুও তাঁরা টিউশন পড়াচ্ছেন। ছাত্রছাত্রীদের যেতে বাধ্য করা হচ্ছে, তাঁদের কাছেই পড়তে। এইভাবে আমাদের সকলের ইনকাম বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।”

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us