
কলকাতা: বিধানসভায় বিরোধী দলের বিধায়কদের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায় বড়সড় স্বস্তি পেলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা হাইকোর্টের জরুরি বেঞ্চে এই মামলার শুনানিতে তাঁর রক্ষাকবচের মেয়াদ আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের জরুরি বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী ১৭ জুলাই পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা যাবে না।
হাইকোর্ট সূত্রে জানা গেছে, এই মামলাটির বিস্তারিত ও মূল শুনানি এর আগে হয়েছিল বিচারপতি কৌশিক চন্দের সিঙ্গল বেঞ্চে। তবে বিচারপতি চন্দ বর্তমানে সার্কিট বেঞ্চের দায়িত্বে থাকায় জরুরি ভিত্তিতে মামলাটি বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে ওঠে। দীর্ঘ শুনানির পর বিচারপতি ঘোষ জানান, যেহেতু মূল মামলাটি বিচারপতি কৌশিক চন্দ শুনেছেন, তাই তাঁর অনুপস্থিতিতে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না।
আগামী ১৪ জুলাই সার্কিট বেঞ্চ থেকে ফিরবেন বিচারপতি চন্দ। তারপরই তাঁর এজলাসে এই মামলার পরবর্তী শুনানি প্রক্রিয়া শুরু হবে। সেই কারণেই অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষার মেয়াদ বাড়িয়ে ১৭ জুলাই পর্যন্ত বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আদালতের এই নির্দেশিকার ফলে আইনি জটিলতার হাত থেকে আপাতত সাময়িক স্বস্তিতে অভিষেক।
বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত করার জন্য যে চিঠি পাঠানো হয়েছিল, তা নিয়েই গোটা বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ উঠেছে, ওই চিঠিতে বেশ কয়েকজন তৃণমূল বিধায়কের স্বাক্ষরে মারাত্মক ‘অসঙ্গতি’ রয়েছে। এই সই-জালিয়াতির অভিযোগ সামনে আসতেই নবান্নের নির্দেশে ঘটনার তদন্তভার হাতে নিয়েছে সিআইডি।
দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসাবে ওই বিতর্কিত চিঠিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর ছিল। যে দলীয় বৈঠকে বিধায়কদের এই সই সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল কালীঘাটে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে। ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্তকারীরা মমতার বাড়ি লাগোয়া ওই কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন। এরপর, সই-কাণ্ডের তদন্তের সূত্র ধরে গত ৩০ মে প্রথমবার অভিষেকের কালীঘাটের বাসভবনে যায় সিআইডি-র একটি দল।
পরবর্তীকালে, এই সই জালিয়াতি মামলার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সিআইডি সদর দফতর ভবানী ভবনে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্দিষ্ট সময়ে তিনি হাজিরা দেননি। সূত্রের খবর, তিনি তদন্তকারী সংস্থার কাছে কিছুটা সময় চেয়ে নেন এবং এরপরই আদালতের দ্বারস্থ হন। সিআইডি-র কড়া পদক্ষেপ থেকে বাঁচতে তিনি আদালতে ‘রক্ষাকবচ’ চেয়ে আবেদন জানান। বর্তমানে বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে এই রক্ষাকবচ সংক্রান্ত আবেদনের শুনানি চলছে।
উল্লেখ্য, এর আগে বিচারপতি চৈতালী চট্টোপাধ্যায় দাসের বেঞ্চে অভিষেকের রক্ষাকবচ মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়েছিল, তবে আদালত সেই জরুরি শুনানির আর্জি খারিজ করে দেয়। ফলে এই মুহূর্তে সই-কাণ্ডে সিআইডি-র তদন্ত ও অভিষেকের আইনি ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।