
কলকাতা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কন্ঠস্বরের মামলা ফের পিছল। তদন্তে অসহযোগিতা নিয়ে এদিন প্রশ্ন তোলে রাজ্য। আগামী ৮ জুলাই অভিষেকের কন্ঠস্বর নমুনা দেওয়ার কথা। বিচারপতি বলেন, “আপনি তো রক্ষাকবচ পেয়েছেন। তারপরও কেন আসছেন না?” রাজ্যের তরফ থেকে বলা হয়, “রক্ষাকবচ যদি দেওয়া হয়, তাহলে তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। ম্যজিষ্ট্রেট যেতে বলার পরেও তিনি মামলা করছেন। আমরা মামলাকারীর কথাতেই বিশ্বাস করতে পারিনা, এটা কার কন্ঠ।”
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, “ইতিমধ্যে মামলাকারী অভিষেকের রক্ষাকবচ রয়েছে। কেন তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন না? কণ্ঠস্বর নমুনা দিক তদন্তকারীদের।” মামলা পিছলেও, আদালত এটা স্পষ্ট করে দেয়, অভিষেককে কন্ঠস্বরের নমুনা দিতেই হবে।
ছাব্বিশের ভোটের প্রচারে গিয়ে ডিজে বাজানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন অভিষেক। তিনি বলেছিলেন, “চার তারিখ বারটার পরে কোন জল্লাদের কত ক্ষমতা। কার দিল্লির বাবা তাঁকে বাঁচাতে আসে আমি দেখব। আর চার তারিখ… মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতই উদার হন স্টিয়ারিং আমার হাতে থাকবে। DJ তো বাজবেই, আর এমন জোরে বাজবে কান ঝালাপালা করে দেব।” অভিষেকের এই মন্তব্য নিয়ে মামলা হয়। ডিজে মামলা ওঠে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে। এখনও তাঁর এজলাসে মামলা চলছে।
তদন্তে নেমে আধিকারিকরা অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা করাতে চান। তদন্তকারী আধিকারিকদের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আদালতে যান অভিষেক। আরও একটা মামলা হয়। কন্ঠস্বরের নমুনা সংক্রান্ত মামলা দায়েরের অনুমতি দেয় বিচারপতি কৌশিক চন্দ। কিন্তু, প্রথমে শুনানি হয়নি। পরে মামলাটি ওঠে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে। বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, তদন্তকারী আধিকারিক যদি মনে করেন ভয়েস স্যাম্পেল দরকার, তাহলে আদালত কি না বলতে পারে? তদন্ত যতক্ষণ চলছে, ততক্ষণ আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে না। অর্থাৎ, নমুনা পরীক্ষায় কোনও হস্তক্ষেপই করেননি বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। তারপর এই মামলাটি ওঠে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, অভিষেককে কন্ঠস্বরের নমুনা দিতেই হবে। কিন্তু তারপরও তিনি যাননি। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী শুক্রবার।