
কলকাতা: নেপথ্য সুমিত রায়। সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত অপরিচিত একটা নাম। কিন্তু শনিবার দিনভর তিনি জুড়ে থাকলেন সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে। আদতে তিনি অভিষেকে বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত-সহায়ক। যাঁকে তন্ন তন্ন করে খুঁজেছে পুলিশ। বাড়ি-শ্বশুরবাড়ি-স্ত্রীর পানশালা কোথাও বাদ দেওয়া হয়নি। শেষমেশ অভিষেকের বাড়ি! সুমিতের বিরুদ্ধেও উঠেছে আর্থিক তছরূপের অভিযোগ উঠেছে। এই সুমিতকে নিয়ে তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কালীঘাট অন্দরেও। পরিস্থিতি এমন মমতার সামনেই রীতিমতো বাগ বিতণ্ডায় জড়িতে পড়েন অভিষেক-কুণাল। অন্তত সূত্র তেমনটাই বলছে।
শনিবার ঘাসফুল শিবিরের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক ডাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনেই তর্কে জড়ান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষ। অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে কেন্দ্র করেই তাঁদের বিবাদ বাধে। বৈঠকের ঘরের বাইরে থেকেও বাদানুবাদের তীব্র আওয়াজ শোনা যায়। সূত্রের খবর, সুমিতকে নিয়ে কুণাল কেন বিরূপ মন্তব্য করেছেন, তা জানতে চান অভিষেক। চুপ থাকেননি কুণালও। তিনিও পাল্টা উত্তর দেন।
শনিবার সন্ধ্যায় সেই আঁচ এখনও গনগনে। তার মধ্যেই রবিবার সকালে সই মামলায় সিআইডি দফতরে হাজিরা দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই তাঁকে জেরা শুরু করে দিয়েছেন আধিকারিকরা। আর এদিনই বিকাল তিনটের মধ্যে ডাকা হয়েছে কুণাল ঘোষকেও। সূত্রের খবর, তাঁদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার সম্ভাবনা রয়েছে। জানা যাচ্ছে, অভিষেক বা কুণালের কোনও কথায় যদি তদন্তকারীরা সন্তুষ্ট না হন, তাহলে তাঁদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হতে পারে।
এবার এখানে বেশ কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। যদি সত্যিই মুখোমুখি বসতে হয়? আর গতকাল রাতের দৃশ্য পুনরাবৃত্তি হয়, তখন কী হবে? সেখানে কিন্তু মমতার জায়গায় CID থাকবে। কালীঘাটের বৈঠকে মমতা থামিয়েছিলেন, CID যে তার উল্টো ভূমিকায় থাকবে বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই মুখোমুখি হলে কী হতে পারে, সেই চাপানউতর চলছে কালীঘাট টু ভবানীভবন।