
কলকাতা: ভোটের ভরাডুবির পর রাস্তায় বের হতেই জনরোষের মুখে পড়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। শনিবার সোনারপুরে এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে দেখা করতে যাওয়ার সময় আক্রান্ত হন অভিষেক। তাঁকে দেখে ক্ষিপ্ত জনতা চোর চোর স্লোগান দেয়। ছোড়া হয় ডিম, কাদা। এমনকী অভিষেকের জামাও ছিঁড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পরই বর্তমানের রাজ্যে বিজেপির সরকার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এক্স ক্যাটেগরির (X Category Security) নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন কী ধরনের নিরাপত্তা পাবেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড, জানেন?
কেন্দ্র বা রাজ্যের তরফে গুরুত্বপূর্ণ বা বিশেষ কোনও ব্যক্তিকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়ে থাকে। মূলত ভিভিআইপি (VVIP), ভিআইপি (VIP), ক্রীড়াবিদ, সেলিব্রিটি বা যেকোনো হাই-প্রোফাইল ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের এই নিরাপত্তা দেওয়া হয়। এই নিরাপত্তার বিভিন্ন ভাগ থাকে। মূলত ৫ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, এক্স, ওয়াই, জেড, জেড প্লাস।
কোনও ব্যক্তি এক্স (X) থেকে শুরু করে জেড প্লাস (Z+) এবং এসপিজি (SPG) -কোন স্তরের নিরাপত্তা পাবেন, তা মূলত ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (IB), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (Home Ministry) এবং রাজ্য সরকারগুলির ঝুঁকি পর্যালোচনার (Threat Assessment) ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।
২০১৫ সালে পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে সভা সময় এক ব্যক্তির হামলার পরই অভিষেকের নিরাপত্তা বাড়িয়ে জেড প্লাস ক্যাটেগরির করে দেওয়া হয়েছিল। পালাবদলের পর সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আপাতত এক্স ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পাবেন। এক্স ক্যাটেগরিতে কী কী সুরক্ষা দেওয়া হয়?
এক্স ক্যাটাগরি হল ভারত সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া ব্যক্তিগত সুরক্ষার সবচেয়ে প্রাথমিক স্তর, যা সাধারণত কোনও ব্যক্তির ওপর কম কিন্তু বিশ্বাসযোগ্য হুমকি বা হামলার আশঙ্কা থাকলে প্রদান করা হয়।
এটি হল ‘স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ’। ভারতের প্রধানমন্ত্রী, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষা (Proximate Security) দেওয়ার জন্য ১৯৮৮ সালে এটি গঠন করা হয়। কেন্দ্রীয় সরকার এই বিশেষ সুরক্ষা গোষ্ঠীর তত্ত্বাবধান, নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণ করে।
এনএসজি বা ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড’ হল ভারতের একটি বিশেষ কম্যান্ডো ইউনিট, যা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (Ministry of Home Affairs) অধীনে কাজ করে। কালো পোশাক এবং পোশাকে থাকা কালো বিড়ালের প্রতীকের কারণে এই কম্যান্ডোদের সাধারণত ‘ব্ল্যাক ক্যাট কম্যান্ডো’ (Black Cat Commandos) বলা হয়।
এনএসজি এবং এসপিজি কেবল নির্দিষ্ট নেতাকেই নয়, তাঁর পরিবারকেও সুরক্ষা দেয়। তবে বর্তমান বা প্রাক্তন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের পরিবারের সদস্যরা চাইলে এই জেড প্লাস নিরাপত্তা প্রত্যাখ্যান করতে পারেন।
এটি হল ‘ইন্দো-তিব্বতিয়ান বর্ডার পুলিশ’ (Indo-Tibetan Border Police)। এটি ভারতের পাঁচটি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (CAPF) একটি, যা ১৯৬২ সালের ২৪ অক্টোবর সিআরপিএফ আইনের অধীনে গঠিত হয়। চিন সংলগ্ন ভারতীয় সীমান্তে মোতায়েনের জন্য মূলত এটি তৈরি করা হয়েছিল।
এটি হল ‘সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স’ বা কেন্দ্রীয় সংরক্ষিত পুলিশ বাহিনী। এটি ভারতের বৃহত্তম কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী। ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে কাজ করে। এই বাহিনীর প্রাথমিক কাজ হল ভারতের রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং উগ্রপন্থা দমন অভিযানে পুলিশি সহায়তা প্রদান করা।
কোনও ব্যক্তি নিরাপত্তা পাবেন কি না এবং পেলে তা কোন ক্যাটাগরির হবে, তা নির্ধারণের মূল দায়িত্ব থাকে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (IB), স্বরাষ্ট্র সচিব এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। অনেক সময় সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের সুপারিশের ভিত্তিতেও এই নিরাপত্তা প্রদান করা হয়ে থাকে।