
কলকাতা: ফোর্ট উইলিয়ামে ঘুষ চক্র। সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার কর্নেল। মঙ্গলবার সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন গ্রেফতার করে ভারতীয় সেনার পূর্বাঞ্চলীয় কম্যান্ডের এক সেনা আধিকারিককে। ফোর্ট উইলিয়াম থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। জানা গিয়েছে, ৫০ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। ধৃতের নাম কর্নেল হিমাংশু বালি।
ভারতীয় সেনা পূর্বাঞ্চলের সদর দফতর ফোর্ট উইলিয়াম বা বিজয় দুর্গ সূত্রে খবর, ফোর্ট উইলিয়ামের একাধিক কাজ ঘুষের বিনিময়ে দরপত্র পাইয়ে দিয়েছিলেন আর্মি অর্ডন্যান্স কর্পসের কর্নেল হিমাংশু বালি। কানপুরের এক ব্যক্তি এবং তাঁর সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দিতে নিম্নমানের নমুনায় অনুমোদন, বকেয়া ও অতিরিক্ত বিলে অনুমোদন দিয়েছিলেন তিনি।
বিষয়টি পূর্বাঞ্চলের সদর দফতরের সেনাকর্তাদের নজরে আসে। তাঁরা গোপনে তদন্ত শুরু করেন। বিষয়টি নিয়ে অনেকটাই জল গড়িয়ে গিয়েছে বুঝতে পেরে সেনার তরফে সিবিআইকে তদন্তভার দেওয়া হয়। ১৮ মে ঘুষ মামলায় এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে সিবিআই। তারপরই কানপুরের অভিযুক্ত সংস্থা অক্ষত আগরওয়াল এবং তাঁর সংস্থা ‘ইস্টার্ন গ্লোবাল লিমিটেডের’ বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করে সিবিআই।
ফোর্ট উইলিয়াম সূত্রে খবর, ইস্টার্ন গ্লোবাল লিমিটেডের মালিক অক্ষত আগরওয়াল এবং তাঁর বাবা হিমাংশুর পূর্ব পরিচিত। ওই সংস্থার বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ রয়েছে, তা জানতে পেরেও ঘুরপথে ওই সংস্থাকে অনুমোদন দেওয়া হয়।এমনকি, এই দরপত্র যাতে অনুমোদন হয়ে যায়, তার জন্য হিমাংশুর কাছে মোটা অঙ্কের টাকা পৌঁছে গিয়েছিল বলে তদন্তে নেমে সেনাবাহিনীর কর্তারা জানতে পারেন।
সিবিআই তদন্তে নেমে ফোর্ট উইলিয়ামের কর্তাদের জানিয়েছেন, চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিলে একটি দরপত্র পেতে হিমাংশুর সঙ্গে যোগাযোগ করে অক্ষত। কলকাতা এবং কলকাতার বাইরে গিয়ে তারা বিভিন্ন সময় পূর্বাঞ্চলের সদর দফতরের বিভিন্ন কাজের দরপত্র কীভাবে অনুমোদন দেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা করত।
এফআইআর অনুযায়ী, কানপুরের সংস্থা ইস্টার্ন গ্লোবাল লিমিটেডের পরিচালকদের বিরুদ্ধে সামরিক টেন্ডার পাওয়ার জন্য ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, বেশ কয়েকটি টেন্ডারে সংস্থাটিকে অন্যায়ভাবে সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। কর্নেল বালি তখন কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামের ইস্টার্ন কমান্ডে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া, নিম্নমানের নমুনা অনুমোদন করানো এবং বেশি বিল পাশ করানোর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এফআইআর-এ দাবি করা হয়েছে যে, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে ঘুষের বিনিময়ে কোম্পানিটিকে একটি বড় টেন্ডার দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে যে, কর্নেল বালি এবং কোম্পানির প্রতিনিধিরা ২২ এপ্রিল কলকাতার পার্ক স্ট্রিট এলাকায় দেখা করেছিলেন। এর দুদিন পর, ২৪ এপ্রিল, কোম্পানিটিকে টেন্ডারটি দেওয়া হয়।
এই কাজে ওই কর্নেল ছাড়াও পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তরের বেশ কয়েকজন সেনাবাহিনীর আধিকারিক যুক্ত রয়েছে বলেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংসার আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন। সোমবার হাওয়ালার মাধ্যমে হিমাংশুর কাছে টাকা পৌঁছে গিয়েছিল। মোট চারটি ভাগে ভাগ হয়ে টাকা হিমাংশুর বেনামী অ্যাকাউন্টে ঢোকে। তাদের মধ্যে মোট ৫০ লক্ষ টাকার “ডিল” হয়েছিল বলে, ফোর্ট উইলিয়ামের কর্তারা জানিয়েছেন।