
কলকাতা ও নয়া দিল্লি: রেশন দুর্নীতির তদন্তে নেমে সন্দেশখালিতে গিয়ে তীব্র জনরোষের মধ্যে পড়তে হয়েছিল ইডির অফিসারদের। তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের বাড়িতে অভিযান চালাতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন ইডির অফিসাররা। রক্ত ঝরেছে। মাথা ফেটেছে। তিনজন ইডি অফিসার জখম হয়েছেন। সেই ঘটনার পরপরই শহরে ছুটে এসেছেন ইডির ডিরেক্টর রাহুল নবীন। কলকাতায় বৈঠক করেছেন ইডি অফিসারদের সঙ্গে। রাজ্যপালের সঙ্গে। সূত্রের খবর, ইডি ডিরেক্টরের গতকালের বৈঠকের রিপোর্ট আজই জমা পড়তে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে।
এদিকে আবার সন্দেশখালির ঘটনা নিয়ে গতকালই রাজ্য সরকারের থেকে রিপোর্ট তলব করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ঘটনার পর রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা কী ছিল তা খতিয়ে দেখতে চাইছে অমিত শাহর মন্ত্রক। সূত্রের খবর, তার ভিত্তিতেই স্থির করা হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পরবর্তী পদক্ষেপ। উল্লেখ্য, সন্দেশখালির ঘটনার পর ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে একটি প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করেছে ইডি। ইডির দাবি, তারা খুনের চেষ্টার অভিযোগ থেকে শুরু করে আরও একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছিল। কিন্তু পুলিশের এফআইআর-এ বেশিরভাগই জামিনযোগ্য ধারা যোগ করা হয়েছে। যদিও রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার জানিয়ে দিয়েছেন, যারা আইন ভেঙেছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সন্দেশখালির ঘটনার পর ইডির ডিরেক্টরের রিপোর্ট যাচ্ছে দিল্লিতে। আবার রাজ্য সরকারের থেকেও রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে যদি রাজ্য প্রশাসনের দিক থেকে কোনও গাফিলতি ধরা পড়ে, তাহলে কী পদক্ষেপ করতে পারে দিল্লি? এক্ষেত্রে পুরনো দু’টি ঘটনার দিকে নজর রাখা দরকার। যেমন, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় জে পি নাড্ডার কনভয়ের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার পর রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকদের দিল্লিতে নর্থ ব্লকে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছিল।
আবার আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক যে পদক্ষেপ করেছিল, সেটার দিকেও এক্ষেত্রে নজর রাখা দরকার। কলাইকুন্ডায় আমফানের পর্যালোচনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠক ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময়েও আলাপনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছিল কেন্দ্রের কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতর। নর্থ ব্লকে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছিল তাঁকে।
এবার সন্দেশখালির ঘটনার ক্ষেত্রেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে জমা পড়া রিপোর্টে যদি রাজ্য প্রশাসনের তরফে কোনও গাফিলতি ধরা পড়ে? সূত্রের খবর, এক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে একই পদক্ষেপের পথে হাঁটতে পারে কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতর।
শুধু তাই নয়, সামনেই লোকসভা ভোট রয়েছে। সেক্ষেত্রে সাম্প্রতিককালে যে ঘটনাগুলি ঘটছে, তা নির্বাচনী বিধি জারি হওয়ার পর জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিচার্য বিষয়ও হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সেক্ষেত্রে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে কত দফায় ভোট হবে, কত সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে, রাজ্যের কোন পুলিশ বা প্রশাসনিক অফিসার কোথায় দায়িত্বে থাকবেন, সেই বিষয়গুলি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।