
কলকাতা: বিহারের বাল্মীকী টাইগার রিজার্ভে বনকর্মীদের ঘুম উড়িয়ে দেওয়া বাঘিনীটিকে অবশেষে কাবু করা সম্ভব হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে বন দফতরের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ঘুমপাড়ানি গুলির (ট্র্যাঙ্কুলাইজার) সাহায্যে বাঘিনীটিকে নিরাপদে কাবু করেন বনকর্মীরা। বন দফতর সূত্রে খবর, খাঁচাবন্দি বাঘিনীটিকে রাজ্য পার করে উত্তরবঙ্গের বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে নিয়ে আসা হচ্ছে। সবরকম শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সুরক্ষাবিধি মেনে আগামী ২ অক্টোবর বক্সার জঙ্গলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বুধবারই হেলিকপ্টারে আনার সম্ভাবনা। উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।
দীর্ঘদিন ধরে এই বাঘিনীটিকে ধরার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছিলেন বিহারের বন কর্মীরা। তাকে সফলভাবে বাগে আনতে পেরে বড়সড় স্বস্তি পেয়েছেন ব্যাঘ্র প্রকল্পের আধিকারিকরা। বক্সার বনাঞ্চলে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ইকো-সিস্টেম পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বিহার থেকে এই বাঘিনীকে আনার প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞরা।
নেপাল ও বিহারে প্রবল বর্ষণের ফলে গণ্ডক নদীর জলে প্লাবিত হয়েছে বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্পের বিস্তীর্ণ এলাকা। জলের তলায় বনভূমি চলে যাওয়ায় বৃষ্টির মধ্যেই বাঘিনির সন্ধান চালাতে সমস্যা হচ্ছিল। প্রসঙ্গত, বাঘের স্থায়ী বসতি গড়ে তুলতে বড় পদক্ষেপ করছে রাজ্য বনদফতর। আগামী ২ অক্টোবর, গান্ধী জয়ন্তীর দিন প্রথম দফায় একটি বাঘিনীকে বক্সার জঙ্গলে ছাড়ার কথা রয়েছে। বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ জানিয়েছেন, সেদিন উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বর্তমানে বক্সায় স্থায়ী বাঘের সংখ্যা না থাকলেও, অসম ও ভুটান সীমান্ত থেকে পুরুষ বাঘের আসা-যাওয়ার প্রমাণ মিলেছে। এই বাঘিনিকে এনে প্রজননের মাধ্যমে স্থায়ী বাঘের সংখ্যা বাড়ানোই সরকারের লক্ষ্য। জাতীয় বাঘ সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের (NTCA) প্রোটোকল মেনে ভবিষ্যতে আরও বাঘ আনা হবে।