
কলকাতা: হুঁশিয়ারি আগেই দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সমাজমাধ্যম থেকে পোস্টে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ। সেই পোস্ট সমাজমাধ্যম থেকে সরিয়ে নিতে বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু সিপিএম নেতা তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সেই পোস্ট সরাননি। এবার তাঁকে ডেকে পাঠাল পুলিশ। কসবা ও গড়ফা থানার পুলিশ সোমবার তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছে। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে গড়ফা ও কসবা থানায় অভিযোগ দায়ের হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিকাশবাবুর ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করেই এই দুটি থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী পোস্টটি সংশোধন করার জন্য তাঁকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। তবে সেই সময়সীমা পার হয়ে গেলেও নিজের মন্তব্যে অনড় থাকেন প্রবীণ এই বাম নেতা। ফলে রবিবার রাতে পুলিশ প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতেই আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। গড়ফা থানায় অভিযোগটি দায়ের করেছিলেন প্রীতম দত্ত এবং তপসিয়া থানায় নালিশ জানিয়েছিলেন সুরজ সিং নামে এক বিজেপি কর্মী।
প্রসঙ্গত, এই গোটা বিষয়ের সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার ভোরে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলাকে ঘিরে। এক ব্যক্তি তাঁর বাড়িতে কাচের শিশি ছোড়েন ও অশ্রাব্য গালিগালাজ করে বলে অভিযোগ। সিসিটিভি-তেও ধরা পড়ে সেই ছবি। বিকাশবাবু নিজের সমাজমাধ্যমে গোটা বিষয়টি উল্লেখ করতে গিয়ে ‘হিন্দুত্ববাদী’ শব্দটি লিখেছিলেন। তা নিয়ে প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্ন থেকে সরাসরি বিকাশবাবুকে সময় বেঁধে দিয়েছিলেন যাতে তিনি এই পোস্টটি নিজে থেকেই সমাজমাধ্যম থেকে সরিয়ে নেন। তা না হলে পদক্ষেপ করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি।
আজ টিভি ৯ বাংলার সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন, “মুখ্যমন্ত্রী আপনাকে পোস্ট সংশোধন করতে বলেছেন।” তখনই বিকাশের উত্তর, “মুখ্যমন্ত্রীকে এই অধিকার কে দিয়েছে আমি জানতে চাই? আগে মুখ্যমন্ত্রী অধিকারের পক্ষে যুক্তি হাজির করুন।”