EX CM Mamata Banerjee: খগেনের বেলায় ‘একটু লেগেছে’, ভাইপোর বেলায়…! মমতার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন

Abhishek Banerjee in Controversy: ২০২৫ সালের শেষে দুর্যোগকবলিত নাগরাকাটায় এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মালদহ উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মু। সঙ্গে ছিলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। বামনডাঙায় ঢোকার আগে শুরু হয়ে যায় তুমুল বিক্ষোভ। লাঠি, জুতো নিয়ে হামলা। পাথর নিয়ে ভেঙে ফেলা হয় গাড়ির কাচ।

EX CM Mamata Banerjee: খগেনের বেলায় ‘একটু লেগেছে’, ভাইপোর বেলায়…! মমতার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন
রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর চলছে Image Credit source: TV 9 Bangla

May 31, 2026 | 1:34 PM

কলকাতা: ‘আমার সেদিন কত রক্তপাত হয়েছে গোটা রাজ্য দেখেছিল, আর মমতা আমাকে দেখার পরে বলেছিলেন সামান্য চোট লেগেছে।’ অভিষেক-ইস্যুতে যখন উত্তাল গোটা রাজ্য তখন তৃণমূলকে অতীত মনে করালেন মালদহ উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মু। মনে করালেন কীভাবে সত্য দেখেও গোটা ঘটনাকে ‘ছোট’ করার চেষ্টা করেছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কী বলছেন খগেন? 

২০২৫ সালের শেষে দুর্যোগকবলিত নাগরাকাটায় এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মালদহ উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মু। সঙ্গে ছিলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। বামনডাঙায় ঢোকার আগে শুরু হয়ে যায় তুমুল বিক্ষোভ। লাঠি, জুতো নিয়ে হামলা। পাথর নিয়ে ভেঙে ফেলা হয় গাড়ির কাচ। মাথা ফেটে গলগল করে রক্ত ঝরতে থাকে খগেনেরও। আঘাত লাগে চোখে, মুখে। আঘাত পান শঙ্করও। ভর্তি থাকতে হয় হাসপাতালে। সেই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে বিস্তর তোলপাড় হলেও মমতা বলেছিলেন, ‘এমন সিরিয়াস কিছু নয়’।  

সেই প্রসঙ্গ তুলেই এখন খগেন মুর্মু বলছেন, “যখন আমার উপর হামলা হয়েছিল তখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আমাকে দেখতেও গিয়েছিলেন। দিদিমণি আমাকে দেখার পর বলেছিলেন কানের নিচে সামান্য একটু চোট লেগেছে। অনেক তথ্যও সামনে এনেছিলেন। আমি জানি না উনি ডাক্তার না অন্য কিছু। ওনার তো আবার সব ক্ষেত্রেই সার্টিফিকেট রয়েছে। সব বিষয়েই পারদর্শী। আমাকে নিয়ে বলেছিলেন আমার সুগার বেশি, ব্লাড প্রেসার বেশি। ওনার চোখটা সেদিন কী ছিল আমি জানি না। আমার চোট লাগার পর প্রচুর রক্তপাত হয়েছিল। উনি দেখেছিলেন আমার বাম দিকের চোখ বন্ধ হয়ে রয়েছে। হাড় ভেঙেছে। ডাক্তারদের রিপোর্টও দেখেছিলেন। তারপরেও বাইরে ওই কথাগুলো বলেছিলেন।”  

এবার বছর ঘুরতেই বদলে গেল ছবিটা। সোনারপুরে নিহত দলীয় কর্মীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তীব্র জনরোষে পড়লেন সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে দেখা মাত্রই উঠল চোর চোর স্লোগান। গায়ে ফাটল একের পর এক ডিম। খেলেন মার। শেষে মাথায় হেলমেট পরিয়ে তাঁকে বের করে আনল পুলিষ। হাসপাতালেও গেলেন। কিন্তু কেউ ভর্তি নিলেন না। ডাক্তাররা সাফ জানালেন, ভর্তির প্রয়োজন নেই। শুনে আবার ছুটে এসেছিলেন তাঁর পিসিও। বিজেপির অভিযোগ, বেলভিউ হাসপাতালে অভিষেককে ভর্তি করাতে চাপ দিয়েছেন খোদ মমতা। তার চোটপাটের ভিডিয়োও সামনে এনেছেন বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার।  

মমতার ভূমিকা প্রশ্ন তুলছে বামেরাও। টেনে এনেছেন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেত্রী ঐশী ঘোষের উপর হামলার প্রসঙ্গও। সেই সময় বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ঐশী ঘোষের নাম না করে মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ করে বলেছিলেন, ‘‘মাথায় একটা বাড়ি পড়েছে, তাতেই এত কথা, এত রাজনীতি!’’ সেই কথা এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের মনে করিয়েছেন বাম নেতা শতরূপ ঘোষ। 

অন্য গন্ধ পাচ্ছেন সুকান্ত 

বিধানসভায় সই কেলেঙ্কারিতে অভিষেককে আবার সোমবারই ডেকে পাঠিয়েছে সিআইডি। তার আগে অন্য গন্ধ পাচ্ছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। বলছেন, “আমার মনে হচ্ছে পুরোটাই প্ল্যান করে করা। হাসপাতালে ভর্তি হলে সোমবার তাঁকে যাতে সিআইডি-র কাছে যেতে না হয় তাই এই প্ল্য়ান করা হতে পারে। এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।” 

Follow Us