
কলকাতা: ৩৪ বছর রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল। এখন একজন বিধায়ক। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসায় বামেদের পুনরুত্থানের সম্ভাবনা দেখছেন কেউ কেউ। সত্যিই কি বামেদের পুনরুত্থান হবে? কী মনে করছেন প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য? টিভি৯ বাংলায় এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে বামেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন বুদ্ধজায়া।
‘কিছুটা হলেও স্থান করে নিতে পারবে’
৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ২০১১ সালে গদিচ্যুত হয় বামেরা। তারপর ধীরে ধীরে বাংলায় তাদের প্রাপ্ত ভোট ও আসন কমেছে। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় বামেরা একটাও আসন পায়নি। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনেও বাংলা থেকে বামেদের প্রাপ্তি শূন্য। তবে ছাব্বিশের নির্বাচনে রাজ্যে একটি আসন পেয়েছে সিপিএম। আবার ১৫ বছর পর বাংলায় তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ফলতায় পুনর্নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে সিপিএম।
এরপরই বাংলায় বামেদের ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কাটাছেঁড়া শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে কী মনে করছেন মীরা ভট্টাচার্য? রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসায় বামেদের ঘুরে দাঁড়ানো কি ত্বরান্বিত হবে? প্রশ্ন শুনেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বুদ্ধ-পত্নী বললেন, “ত্বরান্বিত না হলেও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। অল্প সংখ্যায় হলেও পারবে। আমাদের যারা নতুন প্রজন্ম রয়েছে, তারা রাজনৈতিক বুদ্ধিসম্পন্ন। তবে ঘুরে দাঁড়ানো শব্দটা একটু আপেক্ষিক। এখানে কিছুটা হলেও তারা স্থান করে নিতে পারবে।”
রাজ্যে পালাবদলের পর এখন তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হচ্ছে। ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কী মনে হচ্ছে মীরা ভট্টাচার্যের? প্রশ্ন শুনে তিনি বলেন, “২০১১ সালে পালাবদলের পর কিছুদিন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য জনসভা করেননি। তারপর ২০১৭ সাল পর্যন্ত মিটিং মিছিল করেছেন। কেউ কিছু বলেনি। তবে তাঁদের ৩৪ বছরের সঙ্গে পরের ১৫ বছরকে মেলালে হবে না। ৩৪ বছরে কোনও দুর্নীতির অভিযোগ নেই।” এরপরই তিনি বলেন, “বাংলার যা রাজনৈতিক সংস্কৃতি, তাতে এটা কাম্য় নয়। এটা দেখে কষ্ট হয়। কিন্তু, এর মধ্যে আমি যেতে চাই না।”