KMC: কলকাতা পুরসভারই কর ‘ফাঁকি’ ৮৩ কোটি! চাঞ্চল্যকর তথ্য CAG-র রিপোর্টে

KMC Property Tax: কলকাতা পুরসভার বিভিন্ন প্রকল্প অর্থনৈতিক কারণে আটকে রয়েছে। একাধিক কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। বেতন বা ভাতার ক্ষেত্রেও সমস্যা হচ্ছে। সেখানে এই বিপুল পরিমাণ টাকা কেন আদায় হয়নি সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সিএজি। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে সিএজি একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে।

KMC: কলকাতা পুরসভারই কর ফাঁকি ৮৩ কোটি! চাঞ্চল্যকর তথ্য CAG-র রিপোর্টে
ফাইল ছবি

| Edited By: শুভশ্রী রায়চৌধুরী

Sep 21, 2026 | 10:01 AM

কলকাতা: কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) সম্পত্তি কর আদায় নিয়ে এবার চাঞ্চল্যকর তথ্য ক্যাগ-এর (CAG) রিপোর্টে। পুরসভার আয়ের অন্যতম উৎস সম্পত্তি কর। আর কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা সিএজি-র রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, পুরসভার নিজস্ব সম্পত্তি থেকেই বিপুল পরিমাণ কর বকেয়া রয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, পুরসভার সদর দফতর-সহ বিভিন্ন বরো অফিসের কাছেই প্রায় ৮৩ কোটি ৩ লক্ষ টাকা সম্পত্তি কর বকেয়া রয়েছে। ২০১৬ থেকে সম্পত্তিকর বাবদ এই বিপুল অঙ্ক বকেয়া রয়েছে। কেন এত বিপুল পরিমাণ কর আদায় হয়নি, আর তা আদায়ের জন্য কী পদক্ষেপ করেছে পুরসভা তা জানতে চেয়েছে ক্যাগ (CAG)।

আর কী কী রয়েছে ক্যাগের রিপোর্টে?

মেয়র হিসেবে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের আমল হোক বা ফিরহাদ হাকিমের সময়, পুরসভা সম্পত্তি করে তিন থেকে চারবার ওয়েভার স্কিম চালু করেছে। সেই স্কিম অনুযায়ী, কোটি কোটি টাকা ঘরে তুলতে পারলেও ছাড় দিতে হয়েছে কয়েকশো কোটি টাকা। সিএজি-র তরফে এবার সেই বিষয়টা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দেওয়া হয়েছে। ক্যাগ রিপোর্টে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, নিজস্ব সম্পত্তি থেকেই ৮৩ কোটির বেশি বকেয়া কর আদায়ে ব্যর্থ হয়েছে কলকাতা পুরসভা প্রশাসন। এছাড়া সরকারি সম্পত্তির ক্ষেত্রে যে পরিমাণ কর আদায়ের কথা ছিল, কলকাতা পুরসভা সেই ব্যাপারে কোনও গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ।

কলকাতা পুরসভার বিভিন্ন প্রকল্প অর্থনৈতিক কারণে আটকে রয়েছে। একাধিক কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। বেতন বা ভাতার ক্ষেত্রেও সমস্যা হচ্ছে। সেখানে এই বিপুল পরিমাণ টাকা কেন আদায় হয়নি সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সিএজি। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে সিএজি একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে। তাতে ধরে ধরে কোথায় কত ঠিকানার কর বাকি রয়েছে, তা বিস্তারিত দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এই বিপুল পরিমাণ কর কেন বাকি রাখা হল, কেন সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে কর আদায় করা হল না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

কী বলছেন প্রাক্তন মেয়র?

কর ফাঁকি-র অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, “কোনও সংস্থা চালানোর জন্য অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত জরুরি। আর সেটা যদি না থাকে তাহলে একটা সংস্থা মুখ থুবড়ে পড়বে। পৌরসভার একটা বড় অংশের টাকা যায় হল মাইনে দিতে বা পেনশন দিতে। সেই টাকা তো কেন্দ্রীয় সরকার দেবে না। একটা বড় অংশের টাকা রাজ্য সরকারও দেবে না। সেটা যখন দিতে হবে তখন পৌরসভার ডেভেলপমেন্টের কাজে প্রভাব পড়বে। তাই আমার মনে হয় কর সংগ্রহ একটা বড় ইস্যু। এটা পৌরসভার দেখা উচিত।”

বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ নিশানা করেছেন সিপিএম ও তৃণমূলকে। তিনি বলেন,”সিপিএমের আমল থেকেই কর্পোরেশনকে চোরপোরেশন বলা হত। আর চোরকে রঘু ডাকাতে পরিণত করেছে এই ববি হাকিমরা। ববি হাকিমের সমসাময়িক মেয়র পরিষদে যাঁরা বা টিমে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা। সম্পত্তি করের এই যে ফাঁকি, এটা ৮৩ কোটি হবে না। অনেক বেশি হবে। এখন কোথাও সিএজি-কেও ফাঁকি দিয়েছে কি না ওরা সেটা দেখতে হবে।”

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us