
কলকাতা: তাঁরা ভারতীয় কি না, সেই নাগরিকত্ব নিয়ে উঠেছিল প্রশ্ন। এই নিয়ে মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট (calcutta high court) পর্যন্ত। মামলার শুনানিতে এক পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারকে বড় নির্দেশ দিল আদালত। পরিবারকে নাগরিকত্ব প্রমাণের আরও একবার সুযোগ দিল বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি আর্যক দত্তের ডিভিশন বেঞ্চ। পরিবারের দাবি, তাঁদের কাছে নথি রয়েছে,যা থেকে প্রমাণ করা সম্ভব তাঁরা ভারতীয়। অন্য দিকে,সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও আদালতে পেশ করা হবে। ফলে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও নথি খতিয়ে দেখার পরেই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন আদালত।
মামলার ব্যাকগ্রাউন্ড
উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের বাসিন্দা সাহিদা ফকির (৩৮)। তিনি পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক। কাজের সূত্রে স্বামীর সঙ্গে মুম্বইয়ে থাকতেন তিনি। তাঁর স্বামী জুম্মান ফকিরের অভিযোগ,গত ১৯ জুলাই মুম্বইয়ে বাজার করতে বেরিয়েছিলেন। সেই সময় পুলিশের হাতে আটক হন সাহিদা। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে তাঁকে আটক করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরে ২৩ জুলাই তাঁকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন জুম্মান।
এরপরেই স্ত্রীর নাগরিকত্বের প্রমাণ পেশ করার সুযোগ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন জুম্মান। তাঁর দাবি,সাহিদা ভারতীয় নাগরিক। তাঁদের কাছে এমন একাধিক সরকারি নথি রয়েছে,যা থেকে সাহিদার পারিবারিক পরিচয় মিলবে।
জুম্মানের বক্তব্য,সাহিদার বাবা আমিনুদ্দিন গাজি ও মা মাজিদা গাজির নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় রয়েছে। এমনকী, সাহিদার দাদুর নামও ১৯৫২ সালের ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত ছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। তা সত্ত্বেও এসআইআরে সাহিদার নাম বাদ গিয়েছে। তাঁর নাম ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।
আদালতে ১৯৫২, ১৯৭১ ও ২০০২ সালের মূল ভোটার তালিকা, পরিবারের বংশলতিকা এবং জমির নথি পেশ করার অনুমতি চেয়েছেন জুম্মান। এ ছাড়াও সাহিদার আধার কার্ড, রেশন কার্ড, মাদ্রাসার ট্রান্সফার সার্টিফিকেট এবং তাঁদের সন্তানের জন্মের শংসাপত্রের কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাহিদার জন্ম ১৯৮৮ সালের ২৩ নভেম্বর বাংলায় হয়েছিল এবং ১৯৯৫ সালে তাঁর জন্মের নথিভুক্তিকরণ হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
কবে পরবর্তী শুনানি?
সব পক্ষের কথা শুনে বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি আর্যক দত্তের ডিভিশন বেঞ্চ গত ১৪ অক্টোবর জুম্মান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য একবার সুযোগ দেয়। আগামী ২৫ নভেম্বরের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে। তার পরের দিন, অর্থাৎ ২৬ নভেম্বর মামলাটির ফের শুনানির সম্ভাবনা।