
কলকাতা: ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2026) টিকিট বিক্রির অভিযোগ প্রাক্তন পর্যটন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) বিরুদ্ধে। নাম জড়িয়ে তাঁর স্ত্রীর সংস্থা ‘মাসআর্টের’ও। ইতিমধ্যেই ইডি তল্লাশি চালাচ্ছে। বুধবার ইডি (ED) দফতরে হাজিরাও দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী। এই আবহের মধ্যেই গ্রেফতারির আশঙ্কায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের এজলাসে মামলা দায়ের করেছিলেন। তবে, বিচারপতি অসুস্থ থাকার কারণে বর্তমানে তাঁর মামলা শুনছেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। এ দিন, সওয়াল-জবাবের সময় বিচারপতি ঘোষের পর্যবেক্ষণ, যেহেতু ইন্দ্রনীল রাজ্যের মন্ত্রী তাই প্রভাব খাটানো তাঁর কাছে কোনও কঠিন বিষয় নয়।
কোর্টে ইন্দ্রনীল সেনের আইনজীবী জিষ্ণু সাহা বলেন, “আমি তো পুজোয় প্রোমোটিংয়ের কাজ করেছি। ইউনেস্কর নথি দেখুন।” (এরপর চুক্তিপত্র তুলে দেন বিচারপতির কাছে) ফের বলেন, “সে সময় আমার কাজ নিয়ে প্রশংসা করা হয়েছিল।”
বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বক্তব্য, “কোন ক্যাপাসিটিতে আপনারা করেছেন?”
রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার বলেন, “বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা যায় নাকি?”
উত্তরে আইনজীবী জিষ্ণু সাহা বলেন, “কেউ টিকিটের দাম নিয়ে আগে অভিযোগ করেনি।” শুনেই বিচারপতির তীর্থঙ্কর ঘোষের প্রশ্ন, “প্রিভিউ শো-এর নামে পাস বিক্রি করা যায়?”
ইন্দ্রনীল সেনের পক্ষের আইনজীবীর উত্তর, “২০২৩ সালে বিনামূল্যে পাস দেওয়া হত। বিশেষ ভাবে সক্ষমদের জন্যও বিনামূল্যে ছিল। আমার নামে কেউ প্রতারণার অভিযোগ করতে পারবে না। এই বছরও তো প্রিভিউ শো হচ্ছে। ২০১৪-১৬ পর্যন্ত মন্ত্রী হওয়ার আগেও অনেক কাজ করেছে ‘মাসআর্ট’ (ইন্দ্রনীলের স্ত্রীর সংস্থা)। টেন্ডার নিয়েছে। ৪০টি টেন্ডার নেওয়া হয়েছিল। এখন টেন্ডার নিয়েও অভিযোগ করা হচ্ছে। নীতিন গডকরির সন্তানও একজন ব্যবসায়ী।”
তারপর রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জানিয়েছেন, “১৭ হাজার থেকে ৪.৫ হাজার টাকা প্রতি পাসে নেওয়া হত।”
বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের পর্যবেক্ষণ, “আপনার বিরুদ্ধে মানি ফ্লো এর অভিযোগ আছে। তদন্ত তো বন্ধ করা যায় না। আপনার অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা সরাসরি গিয়েছে?” ইন্দ্রনীলের আইনজীবীর সওয়াল, “ইডি তো ১৯টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে কিছু পায়নি।”
বিচারপতি বলেন, “ইন্দ্রনীল সেন তৎকালীন রাজ্যের মন্ত্রী। তাহলে তিনি কি বাড়তি কোনও সুবিধা পাননি? তিনি যে টেন্ডার প্রক্রিয়া প্রভাব খাঁটাননি তা নিশ্চিত কীভাবে হবে আদালত?” উত্তর দেন আইনজীবী জিষ্ণু। তিনি বলেন, “ইন্দ্রনীল সেনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট কোন টাকা নেই। ইডি এক টাকাও উদ্ধার করতে পারেনি।” আগামি শুক্রবার মামলার পরবর্তী শুনানি। রাজ্যকে ফ্লো চার্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের।