
কলকাতা: এসআইআর-এ নাম বাদের বিরুদ্ধে তাঁদের আবেদন বিচারাধীন। তার পরও চার ব্যক্তির নাগরিকত্ব নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়ায় কলকাতা হাইকোর্টের কড়া প্রশ্নের মুখে পড়লেন ছত্তীসগঢ়ের বিলাসপুরের ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অফিসার (FRO)। ওই FRO পদে রয়েছেন বিলাসপুরের পুলিশ সুপার। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও প্রশ্ন তুলেছেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-এর সময় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে চার ব্যক্তির আবেদন যখন অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন, তখন কীভাবে তাঁদের নাগরিকত্ব নির্ধারণের উদ্যোগ নিল প্রশাসন?
মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের হিরানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা মোস্তাকিম শেখ এই আবেদনটি করেছেন। তাঁর দাবি, SIR-র অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে চার ব্যক্তির দায়ের করা আবেদন দ্রুত শুনানির জন্য নির্দেশ দেওয়া হোক। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে নাসিরুদ্দিন শেখ, লাল্টু শেখ, শফিকুল ইসলাম এবং সাবির শেখ নামে মুর্শিদাবাদের এই চার ব্যক্তিকে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বিলাসপুরে আটক রাখা হয়েছে। তাঁদের প্রতিবেশী হলেন মোস্তাকিম। তাঁর বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী গঠিত অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছেন ওই চার জন।
শুনানির সময় বিচারপতি কৃষ্ণা রাও প্রশ্ন করেন, ট্রাইব্যুনালে যখন ওই চার জনের আবেদন বিচারাধীন, তখন একই সঙ্গে কীভাবে FRO তাঁদের নাগরিকত্ব নির্ধারণ করতে পারেন? আদালত প্রশ্ন করে, “আপনাদের কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব কী? ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব কী? আপনার কর্তৃপক্ষ যদি একই সঙ্গে বিষয়টি নির্ধারণ করে, তাহলে আমি বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেব। কর্তৃপক্ষই সমস্ত নাগরিকত্বের বিষয় নির্ধারণ করছে… আপনারা এমন করছেন কেন?” পুরো পরিস্থিতিকে ‘পরস্পরবিরোধী’ বলে মন্তব্য করে আদালত প্রশ্ন তোলে, প্রশাসন যদি একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল থাকার অর্থই বা কী?
বিচারপতি রাও বলেন, “আপনাদের কর্তৃপক্ষ যদি বলে যে তিনি ভারতীয় নন, তাহলে অ্যাপিলেট কর্তৃপক্ষ কী করবে? আপনারা মানুষের সঙ্গে খেলছেন।” SIR-র অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল যখন সক্রিয়ভাবে তাঁদের আবেদন শুনছে, তখন FRO কীভাবে আটক ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব নির্ধারণ করতে পারে, সেই প্রশ্নও তোলে আদালত।
হাইকোর্টকে জানানো হয়, চার ব্যক্তিকে FRO আটক করেছেন। তবে মামলায় FRO-কে পক্ষ করা হয়নি। তাই আবেদনকারীর আইনজীবীকে FRO-কে মামলায় পক্ষভুক্ত করার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। পাশাপাশি, চার ব্যক্তিকে আটকের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের কাছে রিপোর্ট চেয়েছেন বিচারপতি। আবেদনকারীর আইনজীবী আদালতে জানান, চার ব্যক্তির নামই ২০০২ সালের SIR ভোটার তালিকায় ছিল। এমনকী, তাঁরা ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন। আগামী ৮ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানি।