
কলকাতা: কলকাতা পুর এলাকায় জমে থাকা বিপুল বকেয়া সম্পত্তি কর আদায়ে বড় পদক্ষেপ করল পুর কর্তৃপক্ষ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণার পরই বকেয়া সম্পত্তি করে সুদে ও জরিমানায় বিশেষ ছাড়ের (Waiver Scheme) সম্পূর্ণ রূপরেখা প্রকাশ করল কলকাতা পুরসভা। ২০২০ সালের পর চলতি বছরে পুনরায় চালু হচ্ছে এই ছাড়ের প্রক্রিয়া। বৃহস্পতিবার কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে এই স্কিমের বিভিন্ন নিয়ম ও লক্ষ্যমাত্রার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।
কর খেলাপির পরিসংখ্যান ও লক্ষ্যমাত্রা
পুরসভার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কলকাতা পুর এলাকায় মোট কর খেলাপির সংখ্যা ৩,৮৬,২৮৮ জন। মোট বকেয়া সম্পত্তি করের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৮৫৪.২৯ কোটি টাকা, যার মধ্যে জরিমানা বা পেনাল্টির পরিমাণই ৪০৩.৩৮ কোটি টাকা। এই ছাড়ের কর্মসূচির মাধ্যমে পুর কর্তৃপক্ষ আপাতত ৭৮৪ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
ছাড়ের মেয়াদ ও নিয়মাবলি
স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, বকেয়া কর আদায়ের এই প্রক্রিয়া মার্চ, ২০২৭ পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্নভাবে চলবে। পরিস্থিতি ও প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে এই সময়সীমা আরও ২ মাস বাড়ানো হতে পারে।
স্কিম অনুযায়ী, কর খেলাপির জরিমানা বা পেনাল্টিতে ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হবে। সরকারি বকেয়া করের ক্ষেত্রে মিলবে ১০০ শতাংশ সম্পূর্ণ ছাড়। করদাতাদের সুবিধার্থে পুরসভার প্রতিটি বোরো কার্যালয়ে সাহায্যকারী বুথ বা হেল্প ডেসকের ব্যবস্থা থাকছে।
তবে পুরসভা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যেসব করদাতা বা সংস্থা কলকাতা পুরসভার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা বা কেস লড়ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ওয়েভার স্কিমের কোনও ছাড় প্রযোজ্য হবে না। ছাড়ের সুবিধা পেতে হলে আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২০ সালে কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে বকেয়া কর আদায়ের জন্য অনুরূপ ওয়েভার স্কিম আনা হয়েছিল, যেখান থেকে পুরসভা প্রায় ৬০০ কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিল। চলতি বছরে এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে বকেয়া করের বড় অংশ তুলে আনতে আশাবাদী পুর কর্তৃপক্ষ।