
কলকাতা: নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হাসিরানির মনোয়ন কি বাতিল হবে? কী হতে চলেছে বিজেপি প্রার্থীর ভবিষ্যত? শুনানির শেষে রায়দান আপাতত স্থগিত রাখল কলকাতা হাইকোর্টে। সম্প্রতি, হাসিরানি রথের মনোনয়নে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিজেপি প্রার্থীর জন্ম সাল ও মাধ্যমিকের সাল নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। এই নিয়ে কমিশনে অভিযোগও করা হয়। যার জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। আজ সেই মামলারই শুনানি ছিল বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ,কমিশন মনোনয়ন বাতিলের কথা বলেননি। রিটার্নিং অফিসার মনোনয়ন পত্র পর্যবেক্ষণ করবেন।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল। কংগ্রেস আইনজীবীদের অভিযোগ, মনোনয়নে হাসিরানির যে বয়স উল্লেখ করা হয়েছিল, তার সঙ্গে মাধ্যমিক সার্টিফিকেটের কোনও মিল নেই। সেক্ষেত্রে বয়স ভুল দেওয়া হয়েছে কিংবা জাল সার্টিফিকেট জমা দেওয়া হয়েছে। এমনই অভিযোগ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে মিথ্যে তথ্য দেওয়া হলে, মনোনয়ন বাতিলের অধিকার থাকে রিটার্নিং অফিসারের। সেক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসার কেন তা করেননি, তা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেসের আইনজীবী। পাল্টা কমিশনের বক্তব্য হল, মনোনয়ন স্ক্রুটিনির সময় কেন অভিযোগ করা হয়নি? মামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নির্বাচন কমিশনার। সব পক্ষের শুনানির পর রায়দান স্থগিত রেখেছেন কলকাতা হাইকোর্ট বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।
কংগ্রেসের আইনজীবী ঋজু ঘোষাল: ১৯৬৫ সালে মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট। চৌখালি গঙ্গা খালি বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ। হয় নিজের বয়স নিয়ে মিথ্যে কথা বলছেন। অথবা সার্টিফিকেট জাল। যে কোনও একটা সঠিক হতে পারে। প্রার্থীর নমিনেশন বাতিল করা হোক।
নির্বাচন কমিশন: স্ক্রুটিনির সময় কেউ আপত্তি তুললে, সেটা বৈধ হত। এর পর মামলাকারীর কোনও অধিকার নেই এবিষয়ে প্রশ্ন তোলার। জনস্বার্থ মামলা হলে এই প্রশ্ন তোলা যেত। নমিনেশন জমার সময় কোনও আপত্তি আসেনি। মাধ্যমিক পাশের সার্টিফিকেট জাল নিয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা নমিনেশন বাতিল করার জোড়ালো কারণ নয় ।
বিচারপতি কৃষ্ণা রাও: লজিক আলাদা। আর আইনের প্রয়োগ আলাদা। রিটার্নিং অফিসার নমিনেশন পেপার পরীক্ষা করবেন। ডিস কোয়ালিফিকেশনের কথা এরা বলেননি।
হাসিরানির আইনজীবী জয়দীপ কর: যে সময় আপত্তি জানানোর কথা সেটা হয়নি। দেরিতে আপত্তি জানানো হয়েছে। আদালত পদক্ষেপ করতে পারে না। এটা প্রাথমিক স্টেজ।
হাসিরানি রথের হলফনামা বলছে, তাঁর জন্ম সাল মোটামুটি ১৯৬৫। আবার হলফনামাতে উল্লেখ করেছেন, ১৯৬৫ সালে চৌখালী গঙ্গা পদ্মা মিলন কন্যা বিদ্যাপীঠ স্কুলে দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। কংগ্রেসের অভিযোগ, জন্মেই কি করে বিজেপি প্রার্থী দশম শ্রেণির ছাত্রী হলেন? বিতর্ক এখানেই শেষ নয়, ওই স্কুল ১৯৬৩ সালে পথ চলা শুরু করে। ১৯৬৩ সালে ওই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করানো হত। ১৯৭৩ সালের দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানোর সরকারি অনুমোদন পায় ওই স্কুল।