
কলকাতা: একটি গাড়ি সরাতে গিয়ে ভুল। সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) কালীঘাটের বাড়ির দরজার গার্ডরেলে ধাক্কা। সেই অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত পুলিশ কর্মী। ততকালীন রাজ্য সরকারের (তৃণমূল) সেই নির্দেশ খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।
মঙ্গলবার বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থপ্রতিম রায়ের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি ছিল। ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ওই পুলিশ কর্মী ভুল করেছেন এটা ঠিক। তাঁকে লঘু শাস্তি দেওয়াই যেত। কিন্তু এটা চাকরি যাওয়ার মতো ভুল নয়। তাঁর ভুলের জন্য কেউ আঘাতও পেয়েছেন এমন অভিযোগও নেই। ফলে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার জন্য উপযুক্ত কারণ থাকা দরকার। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, ওই পুলিশ কর্মীকে লঘু দণ্ড দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু চাকরি নেওয়া চলবে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চার সপ্তাহের মধ্যে ওই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
মামলার ব্যাকগ্রাউন্ড
২০০০ সালে ধীরেন্দ্রনাথ মাহাতো কলকাতা পুলিশের গাড়ির চালক হিসেবে চাকরি পান। ২০০৫ সালে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে তাঁকে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশের তরফে। ২০২৩ সালে ৪ ডিসেম্বর ওই পুলিশ কর্মীকে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে একটি ‘Mobile Toilet Van’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত ডিউটিতে রাখা হয়।
পুলিশ কর্মীর দাবি, ওই ভ্যাব থেকে দুর্গন্ধ বেরচ্ছিল। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা আপত্তি করেন। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে উঠে। অভিষেকের বাড়ির সামনে এমন পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে যান তিনি। ওই গাড়ির চালক না থাকায় পুলিশ কর্মী নিজে গাড়িটিকে সরানোর চেষ্টা করেন। তাঁর দাবি, গাড়িটি সরানোর সময় তিনি ভুল করে ‘Reverse Gear’ ব্যবহার করেন। তিনি একটি গার্ডরেলে ধাক্কা মারেন। বাড়ির এন্ট্রাস গেটেও ধাক্কা মারে।
ওই ঘটনায় পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপ করা হয়। ২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বর তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়, পরে সেই সাসপেনশন প্রত্যাহার হলে তিনি আবার কাজে যোগ দেন। হঠাৎ করে ২০২৫-এর ১৩ ফেব্রুয়ারি পুলিশ কর্মী ধীরেন্দ্রনাথকে শোকজ নোটিস দেওয়া হয়। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়—কেন তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না? তার কয়েক দিনের মাথায় ২৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশ কর্মীকে চাকরি বরখাস্ত করা হয়। ওই সিদ্ধান্তের তিনি বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন। মঙ্গলবার ছিল সেই মামলারই শুনানি।