
কলকাতা: আইএসএফ-এর প্রতীক খাম। এই প্রতীকেই দু’টি বিধানসভা নির্বাচনে লড়েছিল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF)। তবে আগামী অক্টোবর মাসে যে উপভোট রয়েছে, তাতে সেই প্রতীক হাতছাড়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন (Election Commission) প্রতীকটি তুলে দিয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’-র হাতে। আর নওশাদদের দেওয়া হয়েছে আলমারি। এরপরই নিজেদের প্রতীক ফেরত চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হন বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। আদালতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চে ছিল সেই মামলার শুনানি। কোর্টের ভর্ৎসনার মুখে পড়েছে নির্বাচন কমিশন।
এ দিন আইএসএফ-এর হয়ে হাইকোর্টে সওয়াল করেছেন আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি কোর্টে সওয়াল করেন, “কমিশন সব দলের জন্যই খাম চিহ্ন ফ্রিজ করতে পারত। এতে ভোটাররা বিভ্রান্ত হত না।” উল্টোদিকে কমিশনের আইনজীবী অনামিকা পান্ডে বলেন, “২০২১ ও ২০২৪ সালে তারা ফ্রি সিম্বল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এটা তাদের চয়েস।”
তখনই বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের প্রশ্ন, “আপনারা সব সময় এমন ত্রুটিপূর্ণ সিদ্ধান্ত কেন নেন? বিচারব্যবস্থাকে চিমটি কাটার জন্যই কি এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেন? ১৮৩ টি চিহ্ন আছে। যেই নির্বাচন শুরু হয় আপনারা সিদ্ধান্ত নেন আর সব রাজনৈতিক দলগুলি আদালতে চলে আসে।” একই সঙ্গে বিচারপতির প্রশ্ন, “উপনির্বাচনে কেন আপনারা এটা ফ্রিজ রাখলেন না অন্য দলের মতো? কমিশনের উচিৎ নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করা। মাত্র চার মাস আগে যে প্রতীক একটি দল ব্যবহার করেছিল, সেটা বদলে গেল? এখন রুল আইন দেখাচ্ছেন?”
এরপর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্যের উদ্দেশে বিচারপতির প্রশ্ন, “এটা অন্য দলের আপনারাই বা কেন খাম চাইলেন?” উত্তরে আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা তিনটি চিহ্ন দিয়েছিলাম। আমাদের চিহ্ন ফ্রিজ করে দেওয়া হয়।”
এরপর কোর্ট প্রতীক নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি কেন? সেই উত্তর আগামিকাল জানাতে নির্দেশ কমিশনকে।