
কলকাতা: অপেক্ষা আর ক’টা দিনের। প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরেই আর কিছুদিনের মধ্যে সম্ভবত গঙ্গার নীচ থেকে মেট্রো পরিষেবা শুরু হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই চিফ কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটির তরফে প্রায় প্রতিটি স্তরেই অনুমোদন এসে গিয়েছে। কিন্তু, ভূগর্ভের ভিতরে পৌঁছলেই মোবাইল একেবারে সার্চিংয়ে চলে যাচ্ছে। কোনরকম নেটওয়ার্ক থাকছে না। তাহলে যখন মেট্রো ভূগর্ভে থাকবে বা গঙ্গার নিচে থাকবে তখন যদি কারও মোবাইলে ফোন আসে তাহলে তিনি কথা বলবেন কিভাবে? এই প্রশ্ন তুলেছিলেন খোদ চিফ কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্প রূপায়ণকারী সংস্থা কেএমআরসিএল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশও দেন। এ বিষয়েই এবার নেওয়া হল বড়সড় সিদ্ধান্ত।
বুধবার সন্ধ্যায় কলকাতা মেট্রো এবং কেএমআরসিএলের তরফে জানিয়ে দেওয়া হল, মেট্রোর ভূগর্ভে বসানো হচ্ছে অপটিক্যাল ফাইবার। কাজে লাগানো হচ্ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। ইন্টারনেট পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার জন্য ভূগর্ভে থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। ফোনে কথা বলতেও আর হবে না কোনও সমস্যা। ফোন কথা বলতে বলতে কেটে যাবে না কল। এসপ্ল্যানেড থেকে হাওড়া ময়দান পর্যন্ত প্রত্যেকটি মেট্রো প্ল্যাটফর্মের কাছে থাকবে অত্যন্ত শক্তিশালী ইন্টারনেট ব্যবস্থা। নির্দিষ্ট দূরত্বের মাঝে বসছে বিশেষ যন্ত্র। মেট্রোর মধ্যে কথা কথা বলার সুবিধা করে দিতেই এই উদ্যোগ।
প্রসঙ্গত, হুগলি নদীর নীচ দিয়ে হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত যাবে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো। এই রাস্তার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬.৫ কিলোমিটার। তার মধ্যে ১০.৮ কিলোমিটার মাটির তলা দিয়ে যাবে। এই পথেই ফোনে কথা বলা নিয়ে তৈরি হয়েছিল উদ্বেগ। যদিও শেষ পর্যন্ত মেট্রোর উদ্যোগেই সমস্যা সমাধানে খুশির হাওয়া নাগরিক মহলে।
কলকাতা মেট্রোর মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কৌশিক মিত্র জানিয়েছেন, এই অপটিক্যাল ফাইবার এবং ইন্টারনেট পরিষেবা দু’টোই যথেষ্ট আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি। যে ক্রটিগুলি ছিল সেগুলি ঠিক করা হয়েছে। যাত্রী পরিষেবা যাতে নির্বিঘ্নে শুরু হতে পারে তার জন্য সবদিক থেকে তৎপর কলকাতা মেট্রো।