
কলকাতা : দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ। এবারও রেকর্ড ভোট পড়েছে বাংলায় (Wets Bengal Assembly Election 2026)। প্রথম দফায় ভোট পড়েছিল ৯৩ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে, দ্বিতীয় দফাতেও ৯১ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে ভোটের হার। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাত পৌনে ৮টা পর্যন্ত ৯১ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। দুই দফা মিলিয়ে ভোটের হার ৯২.৪৭ শতাংশ। ভোটের হার দেখে খুশি নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগারওয়াল (Manoj Kumar Agarwal) টিভি ৯ বাংলাকে একান্ত সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ দেখিয়ে দিয়েছে দুই দফাতেও শান্তিপূর্ণ ভোট হয়। অন্যদিকে, দুই দফায় রেকর্ড ভোটদানের জন্য পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)। তাঁর দাবি, স্বাধীনতার পর এত ভোট পড়েছে বাংলায়।
একদফা নির্বাচনের পক্ষে মত মনোজ কুমারের
ভবানীপুরের ভোটার সিইও মনোজ কুমার আগারওয়াল। সেখানেই ভোট দেন তিনি। ভোট দিয়ে বেরিয়ে টিভি৯ বাংলাকে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ দেখিয়ে দিয়েছে, দুই দফাতেই শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে সাত-আট দফার থেকে। কোনও মৃত্যু হয়নি। বড়সড় কোনও গণ্ডগোল হয়নি। ছোটখাটো তো সব জায়গায় হয়। তবে, এবার পশ্চিমবঙ্গ দেখিয়ে দিয়েছে।” অন্যদিকে, একদফা নির্বাচনের পক্ষেও মতামত দিয়েছেন। তিনি বলেন,” একদফা নির্বাচন অবশ্যই হতে পারে। আমি তো আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে এবারও এক দফা হতে পারত, এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত। কেরলে হতে পারে, তামিলনাড়ুতে হতে পারে তাহলে পশ্চিমবঙ্গে কেন হবে না?”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ নিয়ে কী বলছেন?
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। মমতার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি এই বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। আমি শুধু এটা বলছি, আমাদের কাছে যা অভিযোগ রয়েছে, তা যে কোনও ব্যক্তির তরফে হোক, সেখানে আমরা কোনও পোস্ট বা ব়্যাঙ্ক, কোনও রং বা কোনও ধর্ম আমরা দেখি না। আমরা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করি। তদন্ত করার পর যদি কোনও কিছু সামনে আসে, অভিযোগের যদি সারবত্তা থাকে, তাহলে আমরা আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করি। আর সারবত্তা না থাকলে অভিযোগ ফাইলেই পরে থাকবে।”
জ্ঞানেশ কুমারের বক্তব্য
অন্যদিকে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম ও দ্বিতীয় দফা, দুই পর্যায়েই সর্বোচ্চ ভোটদানের হার।” তাঁর মতে,’চুনাভ কা পরব , পশ্চিমবঙ্গ কা গরব’। বাংলা তর্জমা করলে হয় “ভোটের উৎসব, পশ্চিমবঙ্গের গর্ব।”