
কলকাতা: তাসের ঘরের মতো ভাঙছে ‘কালীঘাট তৃণমূল’। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়লেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জানিয়ে ‘কালীঘাট তৃণমূলের’ রাজ্য সভানেত্রীর পদ ছাড়লেন তিনি। আর চন্দ্রিমা পদত্যাগ করতেই মুখ খুললেন মমতা। ‘কালীঘাট তৃণমূলের’ সুপ্রিমো দাবি করলেন, চন্দ্রিমা অনেকদিন ধরেই পদত্যাগ কথা বলছিলেন তাঁকে। চন্দ্রিমার ছেলে সৌরভ বসুর ঋতব্রত শিবিরে যোগদানের প্রসঙ্গও টেনে আনলেন মমতা।
কী বললেন মমতা?
এদিন ফেসবুক লাইভে মমতা বলেন, “আজকে একজনকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। উনি অনেকদিন ধরেই আমাকে বলছিলেন, পদত্যাগ করবেন। কারণ, ওঁর ছেলে গিয়ে ইতিমধ্যে হাত মিলিয়েছেন। আমার তার জন্য কিছু বলার নেই। ভালো বুঝেছেন, হাত মিলিয়েছেন। কারণ, ওদের অনেক লাগেজ-ব্যাগেজ থাকতে পারে। কিন্তু, আমি তো হাত মেলাইনি। আমি তো হাত মেলাব না। আপনারা একজন কোথায় গেলেন, আমি তোয়াক্কা করি না। আমি আপনাদের উপেক্ষা করি। কারণ, আমি নেতা চাই না। আমি কর্মী চাই। আমি সাধারণ মানুষের ভালোবাসা থেকে যেন বঞ্চিত না হই। আমার কারও বিরুদ্ধে ক্ষোভ নেই। আমি কখনও যেমন উতলা হই না। তেমনই হাসিমুখে যেকোনও সংকট কাটিয়ে যাওয়ার লোক। কারণ, ছাত্র রাজনীতিতে আমার হাতেখড়ি। এবং সংগ্রাম করাই আমার জীবন। সংগ্রামী লগ্নে আমার জন্ম। এই সংগ্রামী লগ্ন থেকে লড়াইটা করব। কেউ কেউ আমার মৃত্যুকামনা করছেন। আরে, আমি এখনও অনেকদিন বেঁচে রয়েছি।”
এরপরই বিদ্রোহীদের নিশানা করে মমতা বলেন, “যাঁরা এই দুর্দিনে রয়েছেন, তাঁরাই তৃণমূল কংগ্রেসের সোনার খনি। আর যাঁরা লাগেজ-ব্যাগেজ নিয়ে বিজেপির আশ্রয়ে জায়গা নিয়েছেন, প্লিজ আর যাই করুন, মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না। আপনারা মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছেন। আপনারা এই প্রতীকে জিতে এসেছেন। আর আজকে বিদ্রোহী। কীসের বিদ্রোহী? নির্বাচনের আগে পর্যন্ত বিদ্রোহ ছিল না। ১৫ বছর আপনারাই বিধায়ক, সাংসদ, মন্ত্রী ছিলেন। সবটাই পেয়েছেন। আমাকে তো কোনওদিন বলেননি।”
সুব্রত বক্সি অসুস্থ হওয়াতেই চন্দ্রিমাকে অস্থায়ীভাবে দলের রাজ্য সভাপতি করা হয়েছিল বলেও এদিন বুঝিয়ে দেন মমতা। এদিন তিনি বলেন, “সুব্রত বক্সি অসুস্থ। সেজন্যই একজনকে অস্থায়ীভাবে রাজ্য সভাপতি করতে হত। এবার থেকে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস যেমন আমি দেখব, রাজ্যেও দলের কাজ দেখব। ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের আমার অফিসই তৃণমূলের অরিজিনাল অফিস হিসেবে কাজ করত। আজও করে। ভবিষ্যতেও করব। দলকে সাহায্য করতে ২ জন সাধারণ সম্পাদককে যোগ করছি। মদন মিত্র ও কুণাল ঘোষ। রাজ্য সভাপতির কাজ আমি নিজে দেখব।”
কী বলছেন চন্দ্রিমা?
চন্দ্রিমার ছেলে সৌরভ বসু ঋতব্রত শিবিরে কিছুদিন আগে যোগ দিয়েছেন। এরপর কলকাতার মেট্রোপলিটনে তৃণমূলের পার্টি অফিসে ঋতব্রত শিবিরের তালা ঝোলানোর পর মমতা তাঁর আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বলে দাবি চন্দ্রিমার। এদিন পদত্যাগ করার পর তিনি বলেন, ““আমি আনুগত্য দেখানোর চেষ্টা করেছিলাম। কোথাও খামতি ছিল না। আমি এ ব্যাপারে নিজের কাছে পরিষ্কার। কিন্তু দেখলাম, সেটাই প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়ল। তৃণমূল ভবনে গতকাল যা ঘটেছে, সেটা নিয়ে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বললাম, উনি আমাকে বললেন, ‘ভবনটা ওদের হাতে তুলে দিলে?’ আমি তো কিছুই তুলে দিইনি। প্রতিদিন যতক্ষণ থাকি, ততক্ষণই ছিলাম। আমার কাছে কেউ আসেনি। আমার সঙ্গে ওদের দেখাও হয়নি।”
কী বলছেন সন্দীপন সাহা?
চন্দ্রিমাকে তাঁদের শিবিরে স্বাগত জানিয়ে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা বলেন, “কালীঘাটে দমবন্ধ পরিবেশে কেউ বেশিদিন থাকতে পারছেন না। তাই তো চন্দ্রিমাদির মতো বর্ষীয়ান নেত্রীও চলে এলেন। আমরা গত ২২ জুন দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে যে পদাধিকারী ঠিক করেছিলাম। এখনও তাঁরাই রয়েছেন। কিন্তু, কালীঘাটে প্রত্যেকদিন পদে অন্যজন বসছে।”