Calcutta High Court: ১২ বছরে কী কাজ করেছে? আমজনতার রাজকোষের টাকা এভাবে নয়ছয়? চিটফান্ড মামলায় কমিটির কাজ নিয়ে অসন্তোষ কলকাতা হাইকোর্টের

Calcutta High Court on Chit Fund Scam: ​শুনানি চলাকালীন আদালতের পক্ষ থেকে মূলত তিনটি মৌলিক প্রশ্ন তোলা হয়। প্রথমত, এখনও পর্যন্ত যে ১০৩টি সংস্থা পাঠানো হয়েছে, তাদের মোট কতগুলি কোম্পানি রয়েছে? যেমন রোজভ্যালির ক্ষেত্রেই ৫৪টি কোম্পানি ছিল, ফলে সমস্ত কোম্পানি ও তাদের অর্থ চিহ্নিতকরণ জরুরি।

Calcutta High Court: ১২ বছরে কী কাজ করেছে? আমজনতার রাজকোষের টাকা এভাবে নয়ছয়? চিটফান্ড মামলায় কমিটির কাজ নিয়ে অসন্তোষ কলকাতা হাইকোর্টের
কলকাতা হাইকোর্টImage Credit source: Bhaswaran BhattacharyaUniversal Images Group via Getty Images

| Edited By: শুভশ্রী রায়চৌধুরী

Oct 08, 2026 | 9:42 PM

কলকাতা : চিটফান্ড মামলায় (Chit Fund Scam) গঠিত জাস্টিস এসপি তালুকদার কমিটির কার্যপদ্ধতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta high Court)। ১২ বছর ধরে কমিটি ঠিক কী কাজ করেছে, তা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে কড়া পর্যবেক্ষণ করেছেন বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ ও বিচারপতি সুদীপ দেবের ডিভিশন বেঞ্চ। আমজনতার রাজকোষের টাকা এভাবে নয়ছয় কেন করা হচ্ছে, তা নিয়ে আদালতের ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছে কমিটিকে।

​শুনানি চলাকালীন আদালতের পক্ষ থেকে মূলত তিনটি মৌলিক প্রশ্ন তোলা হয়। প্রথমত, এখনও পর্যন্ত যে ১০৩টি সংস্থা পাঠানো হয়েছে, তাদের মোট কতগুলি কোম্পানি রয়েছে? যেমন রোজভ্যালির ক্ষেত্রেই ৫৪টি কোম্পানি ছিল, ফলে সমস্ত কোম্পানি ও তাদের অর্থ চিহ্নিতকরণ জরুরি।

দ্বিতীয়ত, ওই সংস্থাগুলির মোট সম্পত্তির পরিমাণ ঠিক কত? দ্রুত সম্পত্তি শনাক্ত না করলে তা হাতবদল বা বিক্রি হয়ে যেতে পারে।

তৃতীয়ত, মোট কত লক্ষ আমানতকারী রয়েছেন এবং কতজন আবেদন করেছেন, যার ভিত্তিতে আনুপাতিক হারে টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব।

​আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কোনও প্রভাবশালী আমানতকারীর সুবিধার জন্য আদালত বসেনি। ৫ হাজার বা ১০ হাজার টাকা রাখা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়াই প্রধান অগ্রাধিকার। বড় আমানতকারীরা আইনজীবী নিয়োগ করতে পারলেও সাধারণ মানুষ তা পারেন না, ফলে তাঁদের স্বার্থরক্ষার দায়িত্ব আদালতেরই।

​সম্পত্তি রক্ষার গাফিলতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত। উল্লেখ করা হয়, ডুয়ার্সে ভিবজিওর-এর প্রায় ৫৪ কোটি টাকার সম্পত্তি কমিটির আওতায় থাকা সত্ত্বেও ২০২৫ সালে বিক্রি হয়ে গিয়েছে এবং অভিযোগ পেয়েও কমিটি কোনও পদক্ষেপ করেনি।

সবচেয়ে কড়া পর্যবেক্ষণ উঠে আসে কমিটির বিপুল খরচ নিয়ে। কমিটির দাবি, পর্যাপ্ত কর্মী নেই। কিন্তু, কমিটির এই যুক্তি উড়িয়ে আদালত জানায়, ২৪ জন কর্মী ও ১৩ জন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর থাকা সত্ত্বেও কাজের অগ্রগতি নেই। হিসাব দিয়ে আদালত বলে, যদি ধরা হয়, বছরে ১০ কোটি হিসেবে ১২ বছরে আনুমানিক ১২০ কোটি টাকার বেশি সরকারি অর্থ খরচ হয়েছে, অথচ আমানতকারীদের ফেরত দেওয়া গিয়েছে মাত্র ৯৬ কোটি টাকা।

বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, জনগণের রাজস্ব খরচ করে যদি এই ফলাফল হয়, তবে তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কমিটির হাতে যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে, সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে। আগামী ১৯ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি। ওইদিন কমিটিকে ভবিষ্যত পদক্ষেপের বিস্তারিত রিপোর্ট জমার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us