
কলকাতা: চোরবাগানকাণ্ডে (Chorbagan Incident) মঞ্চ ভেঙে পড়ার ঘোষণা ঘিরে নতুন তথ্য সিট-এর (SIT) তদন্তে। মূল থিম মণ্ডপের প্রবেশপথ অর্থাৎ অমর বসু সরণিতে মঞ্চ ভেঙে পড়ার কোনও ঘোষণা করা হয়নি। বিশেষ তদন্তকারী দলের প্রাথমিক তদন্তে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত পুলিশকর্মী ও দর্শনার্থীদের বয়ানে সেই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। তাঁদের দাবি, অমর বসু সরণিতে অর্থাৎ মণ্ডপের প্রবেশপথে মঞ্চ ভেঙে পড়ার কোনও ঘোষণা শুনতে পাননি তাঁরা।
তদন্তে জানা গিয়েছে, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে ঘোষণা করার জন্য পুজো কমিটির তরফে মোট ১২টি মাইক বসানো হয়েছিল। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, মুক্তারামবাবু স্ট্রিট এবং পার্বতী ঘোষ লেন জুড়ে ওই মাইকগুলি রাখা ছিল। মঞ্চ ভেঙে পড়ার কথা এই ১২টি মাইক থেকেই ঘোষণা করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে মণ্ডপের কাছাকাছি যে ঘোষণার শব্দ শোনা গিয়েছিল, তদন্তকারীদের দাবি অনুযায়ী, সেটি আসলে মুক্তারামবাবু স্ট্রিটে হয়েছিল। ভিডিয়োতে ঘোষণার শব্দ শোনা গেলেও ঘটনাস্থলের ঠিক কোথায় সেই ঘোষণা করা হয়েছিল, তা নিয়ে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে।
শুধু অমর বসু সরণিই নয়, ওই রাস্তা থেকে বাঁ দিকে গিয়ে রামচন্দ্র চ্যাটার্জি লেন হয়ে মূল থিম মণ্ডপে পৌঁছনো যায়। সিটের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ওই এলাকাতেও মাইকে মঞ্চ ভেঙে পড়ার কোনও ঘোষণা করা হয়নি।
চোরবাগানের পাস নিয়েও একটা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই বিষয়ে ধৃত ঘোষক তদন্তাকারীদের জানিয়েছেন, ঘটনার আগে ই-কমার্স সংস্থার পাস নিয়ে ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই সংস্থার পাস ভিআইপি লাইনে গ্রহণযোগ্য হবে না বলে জানানো হয়েছিল। চুক্তিতে নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশি পাস বিক্রি করা হয়েছিল বলে চোরবাগান পুজো কমিটির কর্তৃপক্ষ সেই পাস গ্রহণ করেনি বলে দাবি ধৃতের।
তবে মঞ্চ ভেঙে পড়ার ঘোষণা ঠিক কার নির্দেশে করা হয়েছিল,সেই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন ধৃতেরা। তদন্ত সূত্রে খবর, ধৃত দুই ঘোষকই এ বিষয়ে মুখ খোলেননি।
শনিবার রাতে চোরবাগানে বিপর্যয়ের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। এই ঘটনায় বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তার মধ্য়ে সবথেকে বেশি চর্চা হচ্ছে মাইকে ঘোষণা নিয়ে। ঠিক কী ঘটেছিল? ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়োতে শোনা গিয়েছে, মণ্ডপ থেকে ঘোষণা করা হচ্ছে, “মণ্ডপের দিকে কেউ আসবেন না…মণ্ডপ পড়ে যাচ্ছে। আপনারা বেরিয়ে আসুন….মণ্ডপের অবস্থা খুব খারাপ…। বাইরের গেট দিয়ে বেরিয়ে যান।”
এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এটা মানুষের ভুল। আর সেই মানুষটা কোন জ্যাকেট পরেছিল, কোন জামা পরেছিল, কী লোগোতে ছিল, সেটা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম দেখবে।” মুখ্যমন্ত্রীর মতে, “মাইকে তো বলার দরকার ছিল না, প্যান্ডেল ভেঙে পড়বে। আমি তো মাঝ রাতে ২টোর সময়ে গিয়ে দেখেছি, তখন তো প্যান্ডেল ভেঙে পড়েনি। আমি তো নিজেই গোটা প্যান্ডেল ঘুরে দেখেছি। এটা দরকার ছিল না। যাঁরা দড়িটা ধরে দাঁড়িয়েছিল, তাঁদের দড়িটা ছেড়ে যাওয়ার দরকার ছিল না।”