
কলকাতা: উদ্বোধনের পর থেকেই তুমুল উন্মাদনা ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় রিল দেখে, লোকমুখে প্রশংসা শুনেই চোরবাগানের মণ্ডপ ও প্রতিমা দেখতে দুর্গাপুজোর শুরু থেকেই লাখ লাখ মানুষের ঢল নেমেছিল। তবে সপ্তমীর রাতই বিভীষিকা হয়ে দাঁড়াল। প্রবল ভিড়ে পদপিষ্ট হয়ে তরতাজা ১৯টি প্রাণ চলে গেল। সপ্তমীর বিপর্যয়ের পরই দর্শকদের জন্য বন্ধ হয়েছে চোরবাগানের পুজো মণ্ডপ। গোটা পুজোটাই অন্ধকার ঘিরে রেখেছিল এই মণ্ডপকে। তবে আজ, দ্বাদশীতে চোরবাগানের মণ্ডপে মানুষের আনাগোনা। আসছে মেশিনের শব্দ, লোহা কাটার আওয়াজ। কী হচ্ছে চোরবাগানে?
দর্শকদের জন্য নয়, চোরবাগানে প্রতিমা নিরঞ্জন করার জন্য এন্ট্রি গেটের উচ্চতা বাড়ানো হচ্ছে। আগামিকাল বা পরশু অর্থাৎ ২৪ বা ২৫ অক্টোবর চোরবাগানের প্রতিমা নিরঞ্জন হতে পারে। ঠাকুর প্রতিমা বের করার জন্য প্রবেশপথের উচ্চতা বাড়ানো হচ্ছে, যাতে ঠাকুর বের করতে কোনও সমস্যা না হয়।
প্রবেশ পথেই যে লোহার জালের মতো কাঠামো ছিল, সেটি খোলা হচ্ছে। লোহা কাটার দিয়ে কাটা হচ্ছে ভিআইপি গেটের সামনের অংশ। শুধুমাত্র প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্যই প্রবেশ পথের উচ্চতা এবং চওড়া বাড়ানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। চোরবাগানে দুর্গা ঠাকুরের প্রতিমার উচ্চতা ৯ ফুট। সেই হিসেবে প্রায় ১২ ফুটের কাছাকাছি উচ্চতা বাড়ানো হচ্ছে।
সামনের অংশ কাটা হলেও, মূল ঘটনাস্থল বা প্লেস অফ অকারেন্স অর্থাৎ যেটা এক্সিট গেট, সেখানে কোনরকম হাত দেওয়া যাবে না। এমনটাই নির্দেশ দিয়েছে তদন্ত কমিটি।
জানা গিয়েছে, চোরবাগান পদপিষ্টের ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত থিমের মূল কাঠামো অক্ষুণ্ণ থাকবে। ইতিমধ্যেই প্রাক্তন বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন এসে ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখেছে এবং তারা মণ্ডপের সামনের অংশের উচ্চতা ও চওড়া বাড়িয়ে প্রতিমা নিরঞ্জনের অনুমতি দিয়েছে। কোনওভাবে ঘটনাস্থলে হাত দেওয়া যাবে না।
আজও ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে গিরীশ পার্ক থানার পুলিশ। লালবাজারের হোমিসাইড বিভাগের আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন।