
কলকাতা: বানতলা চর্মনগরীর পিছনে বেঙ্গল ব্যাডমিন্টন অ্য়াকাডেমি। অধিকাংশ বাঙালির কাছেই অচেনা। সেই অচেনা অ্যাকাডেমিতে বোনা হচ্ছে নতুন স্বপ্ন। যেখানে নিজেদের লক্ষ্যে অবিচল থেকে ঘাম ঝরাচ্ছে কচিকাঁচারা। আর সেই বেঙ্গল ব্যাডমিন্টন অ্যাকাডেমি নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন আরও একজন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত। নিজের শত ব্যস্ততার মধ্যে যিনি সময় বের করে পৌঁছে যান ওই অ্য়াকাডেমিতে। নিজে যেমন এখনও খেলেন। তেমনই অ্যাকাডেমির কচিকাঁচাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখেন।
বাইরে ঝক ঝক করছে একটা বোর্ড। বেঙ্গল ব্যাডমিন্টন অ্যাকাডেমি। ভিতরে আটটি কোর্ট নিয়ে বিশালাকার কোর্ট এলাকা। আট থেকে আঠেরো শাটল ককে তাদের পাখির চোখ। আর তাদের চোখে চোখ রেখে আরেকজন দূরে বসে স্বপ্ন দেখছেন। মাঝে মাঝে যাঁর র্যাকেট ঝড় তুলছে। তিনি আর কেউ নন, সুব্রত গুপ্ত। মুখ্যমন্ত্রীর ঝোড়ো মিটিং সেরে এসেছেন শুধু তাই নয়, পরপর দুটো গেম খেলে তবে শান্তি। যেন এক অন্য সুব্রত গুপ্ত। যেন পেশাদার ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়।
বেঙ্গল ব্যাডমিন্টন অ্যাকাডেমির ইতিহাস শোনালেন আর এক ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়। হীরক সেনগুপ্ত। একদা বেঙ্গল চ্যাম্পিয়ন। জাতীয় স্তরের ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়। তিনি বলেন, “এখানে বিশ্বমানের আটটি ব্যাডমিন্টন কোর্ট রয়েছে।” সুব্রত গুপ্তর অ্যাকাডেমিতে আসা নিয়ে তিনি বলেন, “সপ্তাহে তিনদিন আসেনই। এসআইআর-র সময়ও নিয়মিত আসতেন। সময় বাঁচিয়ে দিনে কিংবা রাতে আসেন।”
আর স্বয়ং সুব্রত গুপ্ত কী বলছেন? খেলে ঘেমে গিয়েছেন তিনি। এই বয়সে কীভাবে খেলাধূলা করছেন? প্রশ্ন শুনেই সহাস্য জবাব, “আমি এতদিন খেলেছি বলেই এখনও খেলা চালিয়ে যেতে পারছি, কাজও চালিয়ে যেতে পারছি। খেলা আমাকে আলাদা অক্সিজেন দেয়। চেষ্টা করি, শনিবার ও রবিবার আসার। অন্যদিনে কাজ তাড়াতাড়ি শেষ হলে রাতে আসার চেষ্টা করি।” ১৯৯৮ সাল থেকে তিনি খেলাধূলার সঙ্গে যুক্ত বলে জানালেন।
সুব্রত গুপ্ত
খেলাধূলায় চোট পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই বয়সে চোট পেয়ে যাওয়ার ভয় লাগে না? জবাবে মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, “না আমার ভয় লাগে না। এতদিন খেলছি। কোনও অসুবিধা কখনও হয়নি।” ব্যাডমিন্টন-সহ অন্যান্য খেলাধূলায় রাজ্য সরকার যাতে সহযোগিতার হাত বাড়ায়, তার চেষ্টা কি তিনি করবেন? সুব্রত গুপ্ত বললেন, “নিশ্চয় চেষ্টা করব। আমাদের রাজ্যে বিভিন্ন খেলায় প্রতিশ্রুতিমান খেলোয়াড় রয়েছে। ক্রিকেটে হয়তো সরকারি সাহায্যের বিশেষ প্রয়োজন নেই। কিন্তু, অন্যান্য খেলাগুলোয় স্পনসরশিপ দরকার। আমার আশা খেলাধূলার উন্নতিতে নতুন রাজ্য সরকার পদক্ষেপ করবে।”
বাংলায় যে রক্তপাতহীন ভোট সম্ভব, নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবে তা তিনি করে দেখিয়েছেন। এখন বাংলায় ব্যাডমিন্টন নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখছেন। নিজের খেলার শেষে চেয়ারে বসে একদৃষ্টে তাকিয়ে রয়েছেন সেইসব কচিকাঁচাদের দিকে, যারা দৌড়ে চলেছে। দু’চোখে স্বপ্ন আর একাগ্রতা। বাংলায় রক্তপাতহীন ভোটের মতো অসম্ভবকে যিনি সম্ভব করেছেন, তাঁর নজরদারিতে স্বপ্ন বুনতে দোষ কোথায়?