
কলকাতা: যখনই বুদ্ধবাবু অসুস্থ হয়েছেন তখনই তাঁকে হাসপাতালে দেখতে ছুটে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বৃহস্পতিবার এভাবে দুঃসংবাদ আসবে তা হয়ত ভাবতেও পারেননি তিনি। মানতেই পারছেন না বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য আর নেই। যখন সাংবাদিকদের সামনে বুদ্ধবাবুর স্মৃতিচারণা করছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, তখন তাঁর চোখে-মুখে ধরা পড়ল সেই ব্যথা। মমতা বললেন, “খবরটা যখন শুনলাম তখনই কেমন টেনস্ড হয়ে গিয়েছিলাম…।”
রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা দু’জনের। তবে তার প্রভাব যে ব্য়ক্তিগত সম্পর্কের মধ্যে পড়েনি তা বারেবারে বুঝিয়ে দিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তিনি প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রী সম্বন্ধে বলতে গিয়ে বলেই ফেললেন, “এই খবরটা যখন আমি শুনলাম, এতটাই টেনস্ড হয়ে গিয়েছিলাম, কীরকম একটা লাগছিল, আমার হাতটা ঘষে যায়। পুরো গল গল করে রক্ত বেরিয়েছে।” মমতা বলেছেন, “ব্যক্তিগত প্রচুর কথা রয়েছে। তবে আজ বলার দিন নয়। আমি যখন আসতাম, যখন ভালো ছিলেন, অনেক কথা বলতেন, সেগুলো ব্যক্তিগত লেভেলের, সেগুলো বাইরে আনতে চাই না…।”
রাজনৈতিক আকচা-আকচি ছিল বরাবরই। ক্ষমতায় থাকাকালীন বুদ্ধদেবকে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে আক্রমণ করেছেন তৎকালীন বিরোধী দলে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে পালা বদলের পর দুজনের সৌজন্যতা ছিল। যতবার বুদ্ধবাবু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, দেখতে গিয়েছেন মমতা ব্যানার্জী। খোঁজ নিয়েছেন স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য, সন্তান সুচেতন ভট্টাচার্যের। আজও তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন মমতা।