
কলকাতা: আগেই তৃণমূল দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। আর তারপর একুশে জুলাই কারা পালন করবে, সেই নিয়ে দুই তৃণমূলের মধ্যেই তরজা অব্যাহত। এর মধ্যে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল আগেভাগেই চলে গিয়েছিল ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে একুশে জুলাইয়ের সভার জন্য। উপস্থিত ছিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। ছিলেন দোলা সেনরা। কার অনুমতি নিয়ে সেখানে তাঁরা গিয়েছিলেন এই নিয়ে সোমবার বিধানসভা অধিবেশেনে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুধু তাই নয়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও দিলেন বার্তা। ঘুরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেফতারির বার্তা দিলেন? উঠছে প্রশ্ন।
এ দিন, তারাতলায় কারখানা বিপর্যয়ে নাম জড়ায় ফিরহাদ হাকিম ঘনিষ্ঠ কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বর্তমানে তিনি জেলে। তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। এই নিয়ে বিধায়ক কুণাল ঘোষ আবার ববি হাকিমের গ্রেফতারির দাবি তুলেছিলেন। সোমবার কটাক্ষের সুরে অধিবেশন চলাকালীন শুভেন্দু অধিকারী সেই কুণালকেই বলেন, “একজন আবার বলছে বিকেল পাঁচটার মধ্যে ববিকে গ্রেফতার করতে হবে।” মুখ্যমন্ত্রী তখন কুণালের দিকে তাকিয়ে বলেন যে, তাহলে তিনি (কুণাল) এসে শুভেন্দুর চেয়ারে বসুন।
এরপরই কথায়-কথায় তিনি বলতে শুরু করেন, “আর একজন বলছেন- কালী তো গেছে, দোয়াত আর পেন যায়নি কেন? আরে পেন যদি ফিরহাদ হাকিম হয়, তাহলে দোয়াতের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীর সঙ্গে যদি পেনও যায়, তাহলে দোয়াতকেও যেতে হবে। এক সঙ্গে সবাইকে যেতে হবে।”
পরক্ষণেই আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কিন্তু এই সরকার প্রমাণ ছাড়া কিছু করবে না। জোগাড় করছি প্রমাণ। থাকলে কাউকে ছাড়ব না। আমরা কোনও ভদ্রলোকের বিরুদ্ধে কিছু করব না।” শুভেন্দুর এই কালী-দোয়াতের মন্তব্যের পরই শুরু হয়েছে জল্পনা।