
কলকাতা: রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের আগেই সুখবর দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। সপ্তম পে কমিশনে দেওয়া হয়েছে শিলমোহর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেওয়া দেড় সপ্তাহের মধ্যেই সেই পে কমিশন গঠনে মিলল অনুমোদন। তবে বকেয়া ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি মন্ত্রিসভা। ফলত, ডিএ-এর কী হবে সেই নিয়ে বাড়ছিল জল্পনা। এবার এই নিয়েই আগামী ৩০ মে সকাল সাড়ে ১০ টায় বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা নিয়ে বৈঠক করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
জানা যাচ্ছে, আগামী শনিবার শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকের দিন উপস্থিত থাকবেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ,দ্য কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ (INTUC), ইউনিটি ফোরাম (অরাজনৈতিক), সরকারি কর্মচারি পরিষদ (BJP)। প্রায় ১২ জন সদস্য থাকবেন এই প্রতিনিধি দলে।
এখানে উল্লেখ্য, এর আগে সপ্তম বেতন কমিশন গঠনকে স্বাগত জানিয়েছিল, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের প্রতিনিধিরা। তবে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে সরকার আজ কিছু জানাবে এরকমই আশা ছিল সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের প্রতিনিধিদের। সরকারের ওপরই ভরসা রাখছে তারা। তখনই তারা জানিয়েছিল, তাদের দেওয়া কথা রাখবে সরকার।
আগের সরকারের সময়ে বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা নিয়ে কম অশান্তি হয়নি। দিনের পর দিন বঞ্চনার অভিযোগ তুলে পথে নেমেছিলেন সরকারি কর্মচারিরা। বহুদিন তাঁরা কর্মবিরতি চালিয়ে গিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, অনশনও করেছেন তাঁরা। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই ডিএ আন্দোলনের জেরে ব্যাহত হয়েছে সাধারণ প্রশাসনিক কাজকর্মও।
কী দাবি ছিল সরকারি কর্মচারিদের?
আন্দোলনকারী কর্মচারিদের মূল দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারিরা যে হারে ডিএ পান, রাজ্য সরকারকেও সেই একই হারে ডিএ দিতে হবে। সেই ফারাক মেটাতে হবে বলেও জানিয়েছিলেন তারা।
কর্মচারি সংগঠনগুলির নেতাদের বক্তব্য, আদালত বারবার ডিএ-কে কর্মচারিদের আইনি অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও, রাজ্য সরকার নানা আইনি জটিলতা তৈরি করে তা আটকে রাখছে। এরপর তৃণমূল সরকারের পরিবর্তন হয়ে রাজ্যে এসেছে বিজেপি সরকার। ফলত, ডিএ নিয়ে তারা কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন শনিবার সেইটাই দেখার।